kalerkantho


ফিলিস্তিনিকে হত্যাকারীর সাজা ১৮ মাস ইসরায়েলিকে পাথর নিক্ষেপকারীর ২০ বছর!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:০৯



ফিলিস্তিনিকে হত্যাকারীর সাজা ১৮ মাস ইসরায়েলিকে পাথর নিক্ষেপকারীর ২০ বছর!

আহত এক ফিলিস্তিনিকে হত্যার দায়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এর এক সদস্যকে মাত্র ১৮ মাসের জেল দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তার অপরাধের মাত্রা তীব্রভাবে গুরুতর হওয়ায় এই সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিকিৎসাকর্মী ইলোর আজারিয়াকে (১৯) ফিলিস্তিনি আবদেল ফাত্তাহ আল শরীফকে (২১) হত্যার দায়ে এই সাজা দেওয়া হয়। নিহত ফিলিস্তিনি যুবক ছুরি নিয়ে ইলোর আজারিয়ার ওপর হামলা করেছিল। এরপর ইলোর ও ফিলিস্তিনিকে নিরস্ত্র করে তার মাথায় গুলি করে হত্যা করেন। ফিলিস্তিনি হামলাকারী আবদেল ফাত্তাহ আল শরীফ গত বছর হেবরনে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী এই হত্যার ঘটনা পুরোটা তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও করেন। ভিডিওটি অনলাইন ছড়িয়ে দেয় ইসরায়েলি মানবাধিকার গ্রুপ B’Tselem.
প্রসিকিউটররা আজারিয়াকে এই অপরাধের জন্য চার থেকে পাঁচ বছরের জেল দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু বিচারকরা তাকে মাত্র ১৮ মাসের জেল দেন যার মধ্যে ১২ মাসই প্রবেশন। এ ছাড়া তাকে সার্জেন্ট পদ থেকে প্রাইভেট ক্যাটেগরিতে পদাবনয়ন করা হয়।

এই শাস্তির রায়টি একটি যুগান্তকারী রায়।

কেননা গত ১২ বছর ধরে ইসরায়েলের সেনা ইউনিফর্মধারীদের কাউকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের জন্য কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।

কিন্তু ফিলিস্তিনি এবং মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যরা এই সাজাকে যথেষ্ট কঠোর নয় আখ্যা করে এর সমালোচনা করছেন।

কারণ দেখা যাবে আজারিয়া হয়ত ১২ মাস পরই ছাড়া পেয়ে গেছেন। আর ইতিমধ্যেই তাকে পুরোপুরি মাফ করে মুক্তি দেওয়ার জন্য উচ্চপর্যায় অনেক লোক আহ্বান জানিয়েছেন।

আজারিয়ার আইনজীবিরা দাবি করেন আত্মরক্ষার্থেই ওই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। আর এই দাবির পেছনে ইসরায়েলের ইহুদিদের ৬৫% তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। গত আগস্টে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট এর এক জরিপে এমনটাই দেখা গেছে।

নিহত আল শরীফের বাবা বলেন, তার ছেলেকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হলেও আজারিয়ার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ নয় শুধু অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। আর তাকে মাত্র তিন বছরের জেল দেওয়ার কথা বলা হয়।

তিনি বলেন, "একটি ফিলিস্তিনি শিশুকে ইসারায়েলিদের দিকে তাক করে পাথর নিক্ষেপের জন্য যে শাস্তি দেওয়া হয় তার চেয়েও কম শাস্তি দেওয়া হয়েছে তার ছেলের হত্যাকারী সেনা আজারিয়াকে। "

২০১৫ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভায় 'যারা পাথর, আগুন বোমা এবং বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে মানুষের প্রাণের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করবে' তাদের জন্য শাস্তি হিসেবে সর্বনিম্ন চার বছরের কারাদণ্ডের আইন করা হয়।

পাথর নিক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক গাড়ি দুর্ঘটনায় এক ইসরায়েলির নিহত হওয়ার ঘটনার পর ওই আইন করা হয়। যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এমনকি ইসরায়েলি সামরিক আইনে পাথর নিক্ষেপের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডও দেওয়ার বিধান করা আছে। এমনটাই বলেছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন আদদামীর।

পাথর নিক্ষেপের শাস্তি দেওয়ার জন্য ২০১৫ সালে করা নতুন আইনে যে ক'জন ফিলিস্তিনিকে সাজা দেওয়া হয়েছে তাদের সাজা আজারিয়ার চেয়ে অনেক বেশি। গত বছর মার্চে জেরুসালেমে গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের অপরাধে পাঁচ ফিলিস্তিনি বালককে যে সাজা দেওয়া হয় :
১. সালেহ আশরাফ ইশতায়া (১৬) : ৩ বছর ৩ মাস
২. মোহাম্মদ আহমেদ জোবায়ের (১৪) :  ৩ বছর
৩. মুরাদ রায়েদ আলক্বাম জাবের (১৪) : ৩ বছর
৪. মোহাম্মদ নায়েল তায়েহ (১৭) : ২ বছর ৪ মাস
৫. জাইদ আয়েদ আল তাউইল (১৬) : ২ বছর ৪ মাস

এ ছাড়া আরো দুজনকে সাজা দেওয়া হয়। ওমর রানি ইয়াসিন (১৪)কে ১ বছর আর ইয়াজান হানি আইউবকে দেওয়া হয় ১ বছর ২ মাসের কারাদণ্ড।
সূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট


মন্তব্য