kalerkantho


বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে থানার টেবিলে সারারাত!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:০৪



বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে থানার টেবিলে সারারাত!

থানার একটি টেবিলে রাত কাটালেন ময়নাগুড়ির শিক্ষিকা তথা শিশু পাচারচক্রে অভিযুক্ত চন্দনা চক্রবর্তী। গতকাল তার ১৩ দিনের সিআইডি হেফাজত হয়েছিল।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কর্মরত চন্দনা চক্রবর্তীর শিশুপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এখনও মানতে পারছে না এলাকার অনেকেই। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় শিশুপাচার চক্রের তদন্তে নেমে ময়নাগুড়ির প্রাথমিক শিক্ষিকা চন্দনা চক্রবর্তীকে ধরে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। তাকে জেরা করে জানা যায়, শুধু দেশে নয়, বিদেশেও শিশু পাচার করতেন চন্দনা।

এদিকে তাকে জেরা করে বিজেপি নেত্রী জুহি সরকার (চৌধুরী) এর নাম উঠে আসে। জানা গেছে, জুহির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল চন্দনাদেবীর। জুহিই তাকে দিল্লির অনেক কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন বলে খবর। এমনকী, সিআইডি কর্তারা এটাও জানতে পেরেছেন গ্রেপ্তারের দুই দিন আগে জুহির বাড়িতেই ছিলেন চন্দনাদেবী। এদিকে গতকাল জুহির বাড়িতে গিয়ে তার দেখা পায়নি সিআইডি। তবে জুহির বাবা বিজেপি নেতা রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আছে।

তাই অনেকে দিল্লিতে তাদের কাছে সাহায্যের জন্য আসেন। চন্দনাও এসেছিলেন। এর সঙ্গে শিশু বিক্রির কোনো যোগ নেই।

প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় শিশু পাচারের ঘটনার তদন্তে নেমে চন্দনা চক্রবর্তীর নাম জানতে পারে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারি নির্দেশের তোয়াক্কা না করে মোটা টাকার বিনিময়ে শিশু বিক্রি করতেন তিনি। এরপর জলপাইগুড়ি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ও রাজ্য প্রশাসনের অভিযোগের ভিত্তিতে চন্দনাকে নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। জানা গেছে, চন্দনা চক্রবর্তীর সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তদন্তকারী অফিসাররা এখন জানার চেষ্টা করছেন, কেন তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তাকে জেরা করেই উঠে আসে জুহি সরকারের নাম। এ ছাড়া গতকালই শিশু বিক্রির সঙ্গে যুক্ত নর্থ বেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের চিফ অ্যাডপশন অফিসার সোনালি মণ্ডলকেও গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

 


মন্তব্য