kalerkantho


ইরাকের মসুল শহরে অবরুদ্ধ আইএস, চুড়ান্ত অভিযান সেনাবাহিনীর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২০



ইরাকের মসুল শহরে অবরুদ্ধ আইএস, চুড়ান্ত অভিযান সেনাবাহিনীর

আইএস-এর হাত থেকে মসুলকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে ইরাকে আজ রবিবার ভোর থেকে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়েছে।
ইরাকি বাহিনী মসুল শহরের টাইগ্রিসের পশ্চিম তীরে অবস্থিত অংশকে বাইরে থেকে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলেছে। শহর লাগোয়া কয়েকটি গ্রাম ইরাকি সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই পুনরুদ্ধার করেছে।  

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দর আল-আবাদি নিজেই মসুল পুনরুদ্ধারে ইরাকি সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত অভিযান শুরুর কথা ঘোষণা করেন। এর পর আজ রবিবার ভোর থেকেই ইরাকের সশস্ত্র বাহিনী মসুলের পশ্চিমাংশ ঘিরে ফেলতে শুরু করে। শত শত সাঁজোয়া গাড়িকে মরুভূমি পেরিয়ে মসুলের পশ্চিম সীমান্তে ভিড় জমাতে দেখা গেছে। শুরু হয়েছে বিমান হামলাও।

টাইগ্রিসের দুই তীর জুড়ে মসুলের অবস্থান। পূর্ব তীরে শহরের যে অংশ রয়েছে, গত মাসে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সেই অংশ পুনরুদ্ধার করে নিয়েছে ইরাক। কিন্তু টাইগ্রিসের পশ্চিম তীরবর্তী এলাকা এখনও আইএস-এর দখলে। এই এলাকা ইরাকে আইএস-এর শেষ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত।

 

ইরাকি বাহিনী যদি পশ্চিম মসুল থেকে আইএস-কে উৎখাত করতে পারে, তাহলে ইরাকের ওপর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পথে এগোবে। আইএস-উৎখাতে যে বাহিনী ইরাকে যুদ্ধ করছে, সে বাহিনীতে ইরাকের সরকারি সেনা ছাড়াও রয়েছে শিয়া মিলিশিয়া এবং কুর্দ বাহিনী। মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন ফোর্স এই বাহিনীকে সব রকম সাহায্য করছে।  

আজ রবিবার সকালে ইরাকি বাহিনী মসুলের পশ্চিমাংশ ঘিরে ফেলার পর কোয়ালিশন ফোর্সও বিমানহানা শুরু করে দিয়েছে। আইএস-এর ঘাঁটিগুলিকে চিহ্নিত করে আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ শুরু করেছে তারা। বাগদাদ সূত্রের খবর, অভিযানের শুরুতেই সাফল্য পেয়েছে ইরাকি বাহিনী। পশ্চিম মসুলের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত দু'টি গ্রাম প্রায় বিনা বাধায় দখল করে নিয়েছে তারা। এই দু'টি গ্রাম দখল করার সুবাদে আইএস-এর দখলে থাকা মসুল বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ইরাকি সেনা।

তবে গ্রামগুলোর সব বাড়িই এখন ফাঁকা বলে জানা গিয়েছে। ইরাকি সেনা অভিযান চালাবে তা আইএস জানত। সেই কারণে যত বেশি সম্ভব সাধারণ নাগরিককে মসুলের ভিতরে জড়ো করেছে আইএস। শহরের মধ্যে এ ভাবে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার সাধারণ নাগরিককে আটকে রাখা হয়েছে।  

এর ফলে ইরাকি সেনা এবং কোয়ালিশন ফোর্স বেপরোয়া আক্রমণ চালাতে পারবে না, কারণ সে ক্ষেত্রের বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। শহরকে ঘিরে ফেলার পর তাই খুব সাবধানে ভিতরের দিকে এগোতে শুরু করেছে ইরাকি সেনা। সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি যাতে না হয়, সে বিষয়ে জাতিসংঘও সতর্কবার্তা দিয়েছে।


মন্তব্য