kalerkantho


ট্রেনে ঝুলে যাতায়াত করেন? সাবধান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৩৭



ট্রেনে ঝুলে যাতায়াত করেন? সাবধান

মুহাম্মদ ইলিয়াস। ক্লাস সেভেনের ছাত্র।

ভিড় ট্রেনে দরজার বাইরে ঝুলছিল ইলিয়াস। হঠাৎ বারপোস্টে মাথা ঠুকে ছিটকে পড়ে সে। এত দ্রুতই ঘটনাটি ঘটেছে কেউ বুঝতেই পারে নি। পরের ট্রেনে যাচ্ছিলেন একজন শিক্ষক মইদুল ইসলাম। স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত একটি ছেলেকে মুখ থুবড়ে থাকতে দেখে চলন্ত ট্রেন থেকেই জীবন বাজী রেখে তিনি ঝাঁপ দেন রেললাইনে। দৌঁড়ে গিয়ে দেখেন তখন ছেলেটির শরীরে প্রাণ আছে। চিৎকার করে আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে জড়ো করেন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের শিয়ালদহের।
জানা গেছে, ইলিয়াস শিয়ালদহের সূর্য সেন স্ট্রিটের এম এল জুবলি ইনস্টিটিউশনের ক্লাস সেভেনের ছাত্র। ইলিয়াসের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। তার অবস্থা সঙ্কটজনক বলেই জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। মাথায় অস্ত্রোপচারও করা হয়। কিন্তু, ঘণ্টাখানেক পরেই মৃত্যু হয় ইলিয়াসের। ইলিয়াসের বাড়ি ট্যাংরার কিলখানায়। বাড়ির লোকের দাবি, বাসে করে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল ইলিয়াসের। মনে করা হচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেনে চেপেছিল সে। সেই সময়ই ঘটনাটি ঘটে।  
যিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে ইলিয়াসকে রেললাইনের ধার উদ্ধার করেছিলেন সেই শিক্ষক মইদুল ইসলামের অভিযোগ, জিআরপি-র লোকজন কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রথমে ছুটে আসেননি। এদিকে, ইলিয়াসের বাড়ির লোক আরপিএফ এবং জিআরপি-র বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ এনেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে যদি জিআরপি বা আরপিএফ উদ্যোগ নিলে অনেক আগেই হাসপাতালে আনা যেত ইলিয়াসকে। সেক্ষেত্রে তার বাঁচার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যেত। শিক্ষক মইদুল যখন ইলিয়াসকে উদ্ধার করেছিলেন তার অনেকটা সময় আগে থেকেই সে রেল লাইনের ধারে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যদিও, পরিবারের অভিযোগ নিয়ে আরপিএফ বা জিআরপি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। - ওয়েবসাইট


মন্তব্য