kalerkantho


আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

ভারতের জালনোট আইএসআই ছাপছে: আইবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:৫৭



ভারতের জালনোট আইএসআই ছাপছে: আইবি

ভারতের জালনোট বাংলাদেশেই ছাপা হচ্ছে বলে তদন্তে জেনেছে ভরতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি। আইবি'র দাবি করাচির টাঁকশালে ছাপা ভারতীয় জালনোট দুবাই হয়ে বাংলাদেশ আনায় ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। এ বার তাই বাংলাদেশেই গোটা পাঁচেক অফসেট প্রেস বসিয়ে ভারতীয় জালনোট ছাপার বন্দোবস্ত করে ফেলেছে পাকিস্থান গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।

ভারতের জাতীয় তদন্তকারি সংস্থা এনআইএ-র এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সালে পাকিস্তান থেকে আসা ৬ কোটি ৪০ লক্ষ ভারতীয় টাকার জালনোট ধরা পড়ে ঢাকা বিমানবন্দরে। আবার, পরের বছরেই চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে পৌনে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় জালনোট উদ্ধার করা হয়। করাচির টাঁকশালে ছাপা এই নোট পাকিস্তান থেকে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিল। এর পরেই কৌশল বদলে জাল নোটের কারবারিরা বাংলাদেশে ছাপাখানা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অপর এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরে ১০০০ এবং ৫০০ টাকার পুরনো নোট বাতিলের পর তড়িঘড়ি ডিসেম্বরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুটি, চট্টগ্রামে দু'টি ও ঢাকার মিরপুরে একটি অফসেট প্রেস বসানো হয়েছে। আইবি জেনেছে, পরের ধাপে মিনি মিন্ট বা ছোট মাপের টাঁকশাল বসানোর পরিকল্পনাও করেছে আইএসআই। শুধু নতুন ২০০০ এবং ৫০০ টাকার নোট নয়, ভারতীয় টাকার ১০০, ৫০, ২০, ১০ টাকার নকলনোট ছাপার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এসব ছাপাখানায়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরে আজিজুর রহমান নামে এক যুবক ২০০০ টাকার ৪০টি জাল নোটসহ ধরা পড়ে।

১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিরণগঞ্জে ২৩ লক্ষ টাকার ভারতীয় জাল নোটসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া যায় ২০০০ টাকার ১১৫০টি জালনোট। জানুয়ারি মাসে মালদহের বৈষ্ণবনগরে দুই দফায় দু'টি করে ২০০০ টাকার জালনোট পেয়েছিল বিএসএফ। গত মঙ্গলবার কালিয়াচকে এক যুবক ২০০০ টাকার তিনটি জাল নোট নিয়ে ধরা পড়ে। এগুলির সবই চাঁপাইনবাবগঞ্জের অফসেট প্রেসে ছাপা বলে দাবি আইবি-র।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কিরণগঞ্জে গ্রেপ্তার হওয় দুই ব্যক্তির নাম মুখলেসুর রহমান ও জসিম আলি। এরা ছাড়াও ওই চক্রে আরও ১০ জন আছে, যাদের এখনও ধরা যায়নি। বস্তুত, ওই ঘটনার তদন্তে নেমেই বাংলাদেশ পুলিশ  অফসেট প্রেসে ভারতীয় জালনোট ছাপার বিষয়টি জানতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার


মন্তব্য