kalerkantho


মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টার 'রুশ সংযোগ' খতিয়ে দেখা হচ্ছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:৫৪



মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টার 'রুশ সংযোগ' খতিয়ে দেখা হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের সঙ্গে রুশ কর্তৃপক্ষের সংযোগ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা খতিয়ে দেখছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, আগের একটি বিতর্ক নতুন করে সামনে আসার পর তুমুল চাপের মুখে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফ্লিনের যোগাযোগ থাকা নিয়েই চলছে ওই বিতর্ক। ডিসেম্বরে রুশ দূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন ফ্লিন।
কয়েকদিন ধরে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা রাশিয়ার দূতের সঙ্গে ফ্লিনের যোগাযোগসংক্রান্ত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করছেন। ট্রাম্পের দায়িত্বগ্রহণের পর রাশিয়ার ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ফ্লিন আলোচনা করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তারা। ফ্লিন যদি তা করে থাকেন তবে তা হবে আইনের লঙ্ঘন। কেননা আইন অনুযায়ী, বেসরকারি নাগরিকদের পররাষ্ট্র নীতিমালাসংক্রান্ত কাজে জড়িত হওয়া নিষিদ্ধ।

সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার এক বিবৃতিতে বলেন, 'প্রেসিডেন্ট পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। ভাইস-প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফ্লিনের কোন বিষয়ে কথা হয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে তিনি ভাইস-প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সম্পর্কে কথা বলছেন। এখানে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে।

'

এর আগে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা কেলিঅ্যান কোনওয়ে জানান, 'প্রেসিডেন্টের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে ফ্লিনের। '

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসএনবিসি-কে কোনওয়ে বলেন, 'এটি জেনারেল ফ্লিনের জন্য এক বিশাল সপ্তাহ। বেশ কয়েকটি বিদেশ সফরে তিনিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। '

জানা গেছে, ফ্লিন রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য ভাইস-প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।

এদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, ফ্লিন এবং কিসলিয়াক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও আলোচনা করেননি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো সূত্রে জানা গেছে, ফ্লিনের জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কথা আলোচনা করছেন ট্রাম্পের জামাতা জেয়ার্ড কুশনার।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসকে গত মাসে ফ্লিনের বিষয়ে সতর্ক করেছিল বিচার বিভাগ। তাদের দাবি, ব্ল্যাকমেইলের কারণে ফ্লিন রুশ প্রশাসনের পক্ষে কাজ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাইকেল ফ্লিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার একজন সাবেক পরিচালক। শুরু থেকেই ট্রাম্পকে সমর্থন করে যাওয়া ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়নের স্বপক্ষের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি।

গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের শপথগ্রহণের কয়েক সপ্তাহ আগে রুশ দূতের সঙ্গে ফ্লিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে শুরুতে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন ফ্লিন। কিন্তু বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন পোস্টে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর। ৯ সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয় প্রকৃতপক্ষে ফ্লিন নিষেধাজ্ঞা প্রশ্নে আলোচনা করেছেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের একদিনেরও বেশি সময় পর ট্রাম্পও এ ব্যাপারে কিছু না জানার কথা বলেন। ট্রাম্প জানান, তিনি এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখবেন। ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ নেতা ও মার্কিন গোয়েন্দাদের কেউ কেউ এ ব্যাপারে এফবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর আহ্বান জানান।

এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে রয়টার্সকে বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রেঞ্চ প্রিয়েবাস এ ব্যাপারে পর্যালোচনা করতে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ফ্লিনের ফোনালাপের সে ট্রান্সক্রিপ্টে এমন কোনও আলামত পাওয়া যায়নি যে, তিনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের আশায় কিছু সাধারণ কথাবার্তা বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ফ্লিনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে কাউকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র : বিবিসি


মন্তব্য