kalerkantho


পররাষ্ট্রনীতিতে 'বেয়াড়া পথে হাঁটা' ত্যাগ করছেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:২৪



পররাষ্ট্রনীতিতে 'বেয়াড়া পথে হাঁটা' ত্যাগ করছেন ট্রাম্প

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বহু বছরের কূটনৈতিক শর্ত ভঙ্গ করে তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনালাপে তাইওয়ানের নেতাকে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র 'এক চীন' নীতি মেনে চলতে আর বাধ্য নাও থাকতে পারে।

ট্রাম্পের এ আচরণে ভীষণ ক্ষেপে যায় চীন। কেননা তাইওয়ানকে চীন তাদের দলছুট প্রদেশ বলে মনে করে। আর তাই ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন এটাকে ওয়াশিংটনের 'শক্তি প্রদর্শন' হিসেবে অভিহিত করে। সাম্প্রতিকতম এই ইস্যুতে অনেকেরই ধারণা জন্মায়, কয়েক দশকের কূটনৈতিক শর্তের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানাতে চাচ্ছেন ট্রাম্প।

তবে বৃহস্পতিবার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাম্প তার আগের অবস্থান থেকে পিছু হটেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে এক চীন নীতির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। গত ৪৪ বছর ধরে চলা ওই নীতির অধীনে বেইজিংয়ের এক চীন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরায়েলের ব্যাপারেও ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

নিজেকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করলেও সম্প্রতি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি বিস্তারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলের বসতি বিস্তার শান্তির পক্ষে ভালো কিছু হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। আর ইরানের ব্যাপারেও ট্রাম্পের বিদেশনীতির ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে।

নির্বাচনী প্রচারণাকালে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি তিনি ছিঁড়ে ফেলবেন। তার মতে, ওই পরমাণু চুক্তি ওবামার আমলের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তা ফেদেরিকা মেঘেরিনিকে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলবে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার বক্তব্য বা বিদেশি নেতাদের সঙ্গে তার ধারাবাহিক ফোনালাপে বিদেশনীতির ক্ষেত্রে তাকে যতটা গোড়া মনে হয়েছিল, ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান দৃষ্টে তার থেকে কম গোড়া প্রতীয়মান হচ্ছে। শুক্রবার যখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানান, তখন তিনি আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র জাপানকে 'শান্তি ও স্থায়িত্বের ভিত্তি' বলে অভিহিত করেন।

নির্বাচনী প্রচারণাকালে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক ও অংশীদারত্বের ব্যাপারে তিনি যে হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার সঙ্গে শুক্রবারের কথাগুলোর কমই মিল রয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন এস ইন্ডিক বলেন, সময়ের পরিক্রমায় প্রত্যেক প্রেসিডেন্টই আবিষ্কার করেন, নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ে ওভাল অফিসের বাস্তবতা ও পরিপ্রেক্ষিত অনেকটাই ভিন্ন। আসল ঘটনা হচ্ছে, বিদেশনীতির ক্ষেত্রে মৌলিক কয়েকটা ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নমনীয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার সদস্য ছাড়াও ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা বর্তমানে তার দলের অন্যান্য নেতার কাছ থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।

জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের পর ইসরায়েলের ব্যাপারে তার নিচু স্বর কিছুটা তীক্ষ্ণ করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া বিশেষ উপদেষ্টা জামাতা জেয়ার্ড কুশনারসহ অন্য উপদেষ্টারা এ ব্যাপারে আরব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ইসরায়েলের বসতি বিস্তারের ব্যাপারে কোনো ছাড় না দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আহ্বান জানান।

এরপরই ইসরায়েলি পত্রিকা ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'বসতি বিস্তার শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে না। আপনি যতই ভূমি দখল করবেন, জায়গা ততই কমে আসবে। ' বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এ মন্তব্য যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট আর বুদ্ধিদীপ্ত।
সূত্র : সিএনএন


মন্তব্য