kalerkantho


এক চীন নীতি মেনে নিতে অঙ্গীকার ট্রাম্পের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:১৭



এক চীন নীতি মেনে নিতে অঙ্গীকার ট্রাম্পের

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই চীনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়লাভের পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ফোন করে তাকে শুভেচ্ছা জানান, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চীন। পরে এক সাক্ষাৎকারে 'যুক্তরাষ্ট্র এক চীন নীতি মানতে বাধ্য নয়' বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এর নিন্দা জানিয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল বেইজিং।
তবে হঠাৎ বদলে গেছে ট্রাম্পের ওই নীতি। বৃহস্পতিবার রাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ফোন করেন ট্রাম্প। ফোনালাপে 'এক চীন' নীতির প্রতি সম্মান জানাতে অঙ্গীকার করেন তিনি।

ট্রাম্পের এই সুর বদলের নেপথ্যে রয়েছেন তার মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টিলারসনের ভূমিকার কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে 'বেয়াড়া পথে হাঁটা' পরিত্যাগ করেছেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে নেপথ্য ভূমিকা পালন করেছেন রেক্স টিলারসন। ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন টিলারসন।

সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে 'বুঝিয়ে রাজি করানোর' যুক্তি তুলে ধরেন।

টিলারসন জানান, এক চীন নীতি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বিকল্প পথ খোলা নেই। তিনি বলেন, ''এটাই একমাত্র সঠিক পথ। দুই দেশের সম্পর্কের জন্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এ পথেই হাঁটতে হবে। '' কর্মকর্তারা জানান, ওই বৈঠকে তার উদ্দেশ্য হাসিলে সফল হন টিলারসন। এরপর জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প তার অবস্থান বদলের কথা জানান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের মার্কিন প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের কর্তৃত্বই বেশি। সেখানে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন তার দপ্তরের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ট্রাম্পকে রাজি করাতে পেরেছেন- এটা বড় সাফল্য। আশা করা যায়, পরবর্তী সময় আরও কিছু ভূ-রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন।

মাত্র ৯ দিন আগে এক্সন মবিলের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী রেক্স টিলারসনের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। রাশিয়াঘেঁষা টিলারসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সিনেটে ৫৬-৪৩ ভোটে ৬৪ বছর বয়সী টিলারসন উতরে যান।

ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ফোন করলেও কথা হচ্ছিল না জিনপিংয়ের সঙ্গে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস এর কারণ প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি জানায়, জিনপিং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ট্রাম্প এক চীন নীতি মেনে না নিলে তিনি কথা বলবেন না। ট্রাম্প অবশেষে সেই শর্ত মেনেই কথা বলেন জিনপিংয়ের সঙ্গে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক চীনা বিশেষজ্ঞ বনি গ্লাস্টার বলেন, ট্রাম্পের অবস্থান বদল উত্তেজনা কমিয়েছে এবং আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। একই সঙ্গে চীন এটাও বুঝেছে, ট্রাম্প যতই কঠোর হোক না কেন- যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করলে কাজ হতে পারে। এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউস বা পররাষ্ট্র দপ্তরের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে এক চীন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের নতিস্বীকার বেইজিংয়ের জন্য প্রথম সফলতা হলেও সামনে এখনও নানা ফ্রন্ট খোলা রয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, পণ্য ও কর্মসংস্থানে চীনা কর্তৃত্ব, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দ্বন্দ্ব, উত্তর কোরিয়া নিয়ে অবস্থান- এসব বিষয় সহজেই ফয়সালা হওয়ার মতো নয়।

বেইজিংয়ের পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়া কিংকুও বলেন, 'চীন যথেষ্ট প্রাগমেটিক ও ধৈর্যশীল। ফলে সম্পর্কের মসৃণ পথ তৈরি করতে পারে। '

চীনের ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছে, ‘ট্রাম্প ধীরে ধীরে তার কাজ শিখে নিচ্ছেন। ক্ষমতা পেয়ে অনেক বাগাড়ম্বর করলেও এখন বার্তা দিয়েছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের অনিষ্টকর হিসেবে আবির্ভূত হবেন না তিনি।


মন্তব্য