kalerkantho


ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার স্থগিতাদেশ পুনর্বহালের আপিল খারিজ

মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আর কোনও বাধা নেই

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:৩৯



মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আর কোনও বাধা নেই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার স্থগিতাদেশ পুনর্বহালের আপিল আবেদনটি খারিজ করেছে আদালত। সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশটি আপিল কোর্টও বহাল রেখেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নাইনথ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শুনানি হয়। তিন বিচারকই সর্বসম্মতভাবে রুল জারি করেন। রুলে বলা হয়, ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে তা বহাল থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা থাকার ব্যাপারে সরকার প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি উল্লেখ করে এ রায় দেওয়া হয়। আর এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাত মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিক ও শরণার্থীদের প্রবেশে বাধা থাকছে না। এদিকে আপিল আদালতের রুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে একটি অডিও বিবৃতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান, সোমালিয়ার নাগরিকদের যাদের ভিসা আছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। ট্রাম্পের ওই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতায় শরণার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখার বিষয়টিও আর বহাল থাকছে না।

অবশ্য, মামলাটি এখন পুরোপুরি মীমাংসার জন্য সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত গড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক বিচারকের সমন্বয়ে বড় একটি প্যানেল তৈরি করে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য নাইনথ সার্কিট কোর্টে আবেদন জানাতে পারবে সরকার। অথবা সরাসরি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন জানানো যাবে। আর এর জন্য সরকার ১৪ দিন সময় পাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি (শুক্রবার) এক নির্বাহী আদেশে তিন মাসের জন্য ৭ মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে স্থগিতাদেশ দেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলা হয়, এ সাত দেশের নাগরিকরা তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হল-ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান, সোমালিয়া। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়।
নির্বাহী আদেশের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হয় মুসলমানরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সংস্কৃতি কর্মীরা এর প্রতিবাদ জানান। নোবেল বিজয়ী শিক্ষা অধিকারকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞাকে মুসলিমবিরোধী নিষেধাজ্ঞা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দেয় সিয়াটলের আদালত। ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী নিষেধাজ্ঞায় সিয়াটলের সেই আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার শেষ রাতের দিকে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে তা পুনর্বহালের আবেদন জানায়। সেসময় আদালত জানায়, চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। গত মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ফেডারেল আদালতে এই নিষেধাজ্ঞা বহালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে মার্কিন বিচার বিভাগ। সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক নাইনথ্ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করে ১৫ পৃষ্ঠার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয় দাবি করে এটি ‘প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার আইনসম্মত ব্যবহার’ বলে দাবি করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ চূড়ান্ত শুনানি দিলো আপিল আদালত। যুক্তরাষ্ট্রে সাত মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিক ও শরণার্থীদের প্রবেশে বাধা থাকছে না।
আপিল আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাত মুসলিম দেশের আন্দোলরত কমিউনিটির নেতা সংশ্লিষ্ট আইনজীবি ও মানবাধিকার কর্মিরা।


মন্তব্য