kalerkantho


মা-বাবার শেষকৃত্য করতে চায় খুনী ছেলে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:০৬



মা-বাবার শেষকৃত্য করতে চায় খুনী ছেলে!

যাদের খুন করতে তার হাত কাঁপেনি, এখন তাদের পারলৌকিক ক্রিয়ার সাধ হয়েছে ভারতের আলোচিত খুনী উদয়নের। পুলিশের কাছে সে নিজেই জানিয়েছে তার বাবা-মাকে খুনের কথা।

 খুনের জন্য তার কোনো অনুশোচনাও নেই। অথচ বুধবার সে নিজের আইনজীবীর কাছে বাবা-মায়ের পারলৌকিক কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছে।  

পুলিশ হেফাজতে দ্বিতীয় দিনেও রাজার হালে কাটিয়েছে উদয়ন। পছন্দমতো খাবারের আবদার তো আছেই, সেই সঙ্গে কখনও খবরের কাগজ চেয়ে নিজের সম্পর্কিত প্রকাশিত সংবাদ পড়ে শোনাতে বলেছে, আবার কখনও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে খোশগল্প করেছে। মঙ্গলবার রাতে টানা জেরার পর আরামসে ঘুম দিয়েছে। যেন কিছুই হয়নি।  সকালে প্রহরী তাকে চা-বিস্কুট দিতে গেলে ফিরিয়ে দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছে।

উদয়নের মুখে বিকট গন্ধের কারণে পুলিশ পর্যন্ত তার কাছে ঘেঁষতে পারছিল না। তাই উদয়নই সকালে পুলিশের কাছে দাঁত মাজার পেস্ট চেয়েছে।

মুখ ধুয়ে চা-বিস্কুটের পর চপ-মুড়ি আর পাউরুটি টোস্ট দিয়ে প্রাতরাশ সেরেছে। লকআপের প্রহরীর সঙ্গে গল্পও করেছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, কথায় কথায় সে প্রহরীকে বলেছে, "জানেন তো, আমার চেহারা আগে ভালোই ছিল। এখন ওজন কমে গেছে। তিন মাস ভারী খাবার কিছু খাইনি তো। কেবল সিঙাড়া খেয়ে কাটিয়েছি। "

প্রহরীকে না-বললেও পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রেমিকা আকাঙ্ক্ষা শর্মাকে খুন করার পর দীর্ঘদিন শুধু মদ আর সিঙাড়া খেয়ে কাটিয়েছে উদয়ন। যদিও তার বিলাসিতার নিদর্শন পেয়েছে পুলিশ। ভোপালের সাকেতনগরে উদয়নের বাড়িতে দুটি দামি গাড়ি পাওয়া গেছে।

পুলিশকে ওএলএক্সে মার্সিডিস বেঞ্চ ও হোন্ডা সিটি গাড়ি দুটি কেনার গল্প শুনিয়েছে। গাড়ি দুটি ছাড়াও তার গ্যারাজে মিলেছে একটি দামি স্পোর্টস বাইকও। জামাকাপড়েও সেইরকম বিলাসিতার নমুনা পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘরে শুধু ব্লেজার ছিল ৬০টি! জুতোর সংখ্যা ২০ জোড়া। জামা-প্যান্টের কোনো হিসেব নেই। খাওয়ার ব্যাপারেও যে উদয়ন বেশ ভোজনরসিক।  তার প্রমাণ মিলছে প্রথম থেকেই। মঙ্গলবার রাতে একেবারে পঞ্চব্যঞ্জনে নৈশভোজ খেয়েছে সে। তার আবদার মেনে লক-আপে খেতে দেওয়া হয়েছিল ভাত, আলু চোখা, মুসুর ডাল সেদ্ধ, আলু ভাজা, বেগুন ভাজা, সিম-গাজরের তরকারির সঙ্গে ডাবল ডিমের কারি।

একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, "উদয়ন অত্যন্ত চালাক। একদম সাইকো নয়। যত ওকে দেখছি, তত তা স্পষ্ট হচ্ছে। " বাবা-মায়ের পারলৌকিক কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশের মধ্যেও উদয়নের কোনো অভিসন্ধি আছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। যদিও পুলিশ হেফাজতে থেকে সেটা করা যায় কি না, সে সম্পর্কে নিঃসন্দেহ নন আকাঙ্ক্ষার খুনে অভিযুক্ত ভোপালের যুবকটি। তার আইনজীবী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বাঁকুড়া থানায় আসেন। উদয়নের সঙ্গে কথা বলে বেরোনোর সময় তিনি বলেন, "আমি ওকে বলেছি, এই ধরনের পিটিশন করা যায় কি না, সেটা দেখব। আমি আইনজীবী হিসেবেই ওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। " আইনজীবীর কাছে সে পুলিশের প্রশংসাই করেছে।

আইনজীবী অরূপ বলেন, "উদয়ন বলেছে, ওর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। পুলিশ সাহায্যই করছে। সব ঠিকঠাক। " এই প্রশংসাও উদয়নের চাল কি না, তা বোঝার চেষ্টা করছেন পুলিশকর্তারা। আকাঙ্ক্ষার দেহাংশের ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর জন্য বুধবার আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বাঁকুড়া পুলিশ। অনুমতি পেলে নিহত তরুণীর পরিবারের কারও রক্ত সংগ্রহ করে তার ডিএনএ টেস্টও করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

-এই সময়


মন্তব্য