kalerkantho


বাইরে পুলিশ, কারণ চলছে হিজড়াদের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:২৪



বাইরে পুলিশ, কারণ চলছে হিজড়াদের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান

ঘটনা কয়েক দিন আগের। কিন্তু বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা চলতে পারে বিস্তর সময় ধরে। পাকিস্তানের পেশোয়ারে চলছে জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। বেশ আয়োজনে অনুষ্ঠান বর্ণিল হয়ে উঠেছে। সবাই নেচে-গেয়ে আনন্দ উদযাপন করছেন। কেক কাটা হয়েছে। একে অপরকে কেক খাইয়ে দিচ্ছেন। আর দশটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানের মতোই উদযাপন চলছে। কিন্তু তবুও এটি মানুষের চোখে সাধারণ অনুষ্ঠান নয়। কারণ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক দল পুলিশ। কারণ একটাই, এটা হিজড়া সম্প্রদায়ের উদযাপন।

তাদেরই কারো একজনের জন্মদিন।

পাকিস্তানে হিজড়া অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আবার অনেক বিয়ে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে তারা নৃত্যশিল্পী হিসাবেও কাজ করেন। কিন্তু নিজেদের আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠান বা উদযাপনে তাদের তেমনটা দেখা যায় না।

ট্রান্স অ্যাকশন পাকিস্তানের এক নেতা ফারজানা জান বলেন, গত এ যুগের মধ্যে এই প্রথম আমরা প্রকাশ্যে নিজেদের কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।

ট্রান্স অ্যাকশন পাকিস্তান এক ক্যাম্পেইন গ্রুপ। তাদের হিসাবে, দেশের ১৯০ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ৫ লাখ বৃহন্নলা রয়েছেন।

শহরের কর্তৃপক্ষ সাধারণত হিজড়াদের নিজস্ব পার্টির অনুমতি দেয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের নিজস্ব কোনো আয়োজনে হানা দেয় পুলিশ।

সব সময় হিজড়াদের প্রতি কঠোর মনোভাব ধারণ করেছে পাকিস্তান। তবে গত বছর এক ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টকে ৬টি গুলি করা হয়। পরে তিনি পেশোয়ার হসপিটালে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের প্রতি কিছুটা নমনীয় হয়েছে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গী।

 

তবে সেদিনের অনুষ্ঠানে কোনো লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি। আবার নিষিদ্ধও ছিল না। মূলত পুলিশ দরজায় নিরাপত্তা দেয়। কেউ যেন অস্ত্রসহ প্রবেশ না করেন এবং নিমন্ত্রণের বাইরে কেউ যে না আসেন তাই দেখে পুলিশ।

এখানে উপস্থিত প্রত্যেক হিজড়ার জীবনে কোনো না কোনো সময় তার জন্মদিনের অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু একবার যখন হিজড়া হিসাবে তাদের পরিচয় ঘটলো, তখন থেকে জীবনটাই বদলে গেছে।

 

এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বা পুলিশকে বোঝাতে আমাদের বহু সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এটাই আমার জীবনের প্রথম এবং শেষ জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। তাই এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সুখকর উপলক্ষ।

সব দেশেই অবহেলিত তারা। পাকিস্তানে এদের পরিবার থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তাদের ভিক্ষাবৃত্তি বা পতিতাবৃত্তি বেছে নিতে বাধ্য করা হয়। বেঁচে থাকার জন্যে হলেও এসব কাজে জড়িয়ে পড়েন তারা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা নিজেদের পরিচয় নিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০১২ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট হিজড়াদের সমঅধিকারের ঘোষণা দেয়। তার এক বছর আগে তাদের ভোটের অধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকার ও স্বাধীনতার স্বাদ নিতে এখনো বহুদূর যেতে হবে তাদের। সেই স্বপ্ন বুকে ধরেছেন এবং এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সূত্র: ডন

 


মন্তব্য