kalerkantho


ক্রাইম পেট্রোল: গুপ্তধন ও ভয়াবহ নরবলি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৪



ক্রাইম পেট্রোল: গুপ্তধন ও ভয়াবহ নরবলি

১৫ লাখ রুপি দেনা ছিল। দেনার ভার থেকে মুক্তির জন্য ভারতের জয়পুরের এক বেপরোয়া ব্যক্তি তান্ত্রিকের আশ্রয় নেয়।

তান্ত্রিক তার সমস্যার ‘মেড ইজি’ কায়দার সমাধান দেন। সিদ্ধি সাধন করতে লাগবে নরবলি।

ভয়াবহ এই কায়দা শেষ পর্যন্ত অবলম্বন করে সে এই লোভে যে এর মাধ্যমে গুপ্তধনের অধিকারী হবে। ঘটবে ঋণমুক্তিও।

জয়পুরের পাশের জোবনেরের কালখ এলাকার দুর্গম পাহাড়ে গত ২২ জানুয়ারি মস্তক বিচ্ছিন্ন ও পোড়া একটি মরদেহ পাওয়া যায়। নাম-পরিচয়হীন লাশের সঙ্গে থাকা কাগজপত্রে রামচরণ যাদব নামে একজনের কথা জানা যায়। পুলিশ জটিল এই কেসের তদন্ত শুরু করে।   ঘটনার পর্দা খুলতে থাকে। জানা যায়, শবটি ছিল কালবাড এলাকার শম্ভু সেনের আর তাকে হত্যা করেছে রামচরণ যাদব।

তদন্তে আরও জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি শম্ভুকে মোটরসাইকেলে করে বেড়াতে নিয়ে আসে রামচরণ। পরে ওই পাহাড়ের এক দুর্গে নিয়ে ধোঁকায় ফেলে শম্ভুকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর লাশটি জ্বালিয়ে দেয় এবং নিজের মোটরসাইকেল ও কাগজপত্র সেখানেই ফেলে আসে যাতে মনে হয় যে ওটা রামচরণেরই লাশ।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার এই ‘চিত্রনাট্যের প্যাঁচ’ কাজে লাগেনি।   উল্টো তা তার গলায় বসে গেছে ফাঁস হয়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে রামচরণ জানায়, অনেক ধার-দেনা হয়ে গিয়েছিল তার। ১৫ লাখ রুপি দেনার দায়ে অস্থির ছিল সে। ৬ মাস আগে এক তান্ত্রিক বাবার সাক্ষাৎ পায় যে তাকে এই নির্মম অমানবিক বর্বরতার মাধ্যমে গুপ্তধনের লোভ দেখায়।

রামচরণ সে সূত্রে একই গ্রামের শম্ভুকে ধোঁকা দিয়ে নিয়ে যায় কালখ দুর্গে। সেখানে ছুড়ি মেরে ও পাথর দিয়ে থেতলে হত্যা করে তাকে।

লাশ উদ্ধারের পর রামচরণের স্বজনরা তা তার বলে দাবি করে। তবে মর্গে উপস্থিত শম্ভুর স্বজনদের সন্দেহ হয়। তারা শবটি শম্ভুর বলে দাবি করে। দুই পরিবারে বেঁধে যায় ঝগড়া। শেষে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ হয় লাশটি শম্ভু সেনেরই।   পুলিশ পাকড়াও করে খুনিকে।

রামচরণ জানায়, তার পরিকল্পনা ছিল নিজের মৃত্যুকে প্রতিষ্ঠিত করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সুযোগ মতো সে কালখ দুর্গের ‘গুপ্তধন’ উদ্ধার করবে।

ওদিকে তান্ত্রিক গা ঢাকা দিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হিন্দি জাগরণ.কম


মন্তব্য