kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রে ৭দিনে সাত মুসলিম দেশের এক লাখ ভিসা বাতিল

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:১২



যুক্তরাষ্ট্রে ৭দিনে সাত মুসলিম দেশের এক লাখ ভিসা বাতিল

গত ৭ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিশ্বের সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের আবেদন করা এক লাখ ভিসা প্রত্যাহার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপের প্রথম পর্যায়ে মুসলমান শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে ক্ষমতা হাতে নেওয়ার শুরুতেই এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শুক্রবার ভ্রমণ নিষেধের আওতায় পড়া সাতটি দেশের নাগরিকদের আলেকজান্দ্রিয়ার ফেডারেল কোর্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় ভিসা প্রত্যাহারের এ সংখ্যা এমন একসময় প্রকাশ করা হয়েছে যখন আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলার শুনানি চলছে। ইয়েমেনের দুই ভাইয়ের জন্য দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মামলাটি করেন। ইয়েমেনের বাসিন্দা ওই দুই ভাই গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের উদ্দেশে ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় ভিসা ফেরত নিতে তারা নিগ্রহের শিকার হন। এক পর্যায়ে তারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং খুবই দ্রুত তাদের ইথিওপিয়ার একটি ফিরতি বিমানে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিমানবন্দরে নিগৃহীত ইয়েমেনের ওই দুই ভাইয়ের পক্ষে দেশটির লিগ্যাল এইড জাস্টিস সেন্টারের আইনজীবী সিমন স্যানডোভাল মসেনবার্গ বলেন, 'এত বেশি ভিসা প্রত্যাহারের ঘটনায় আমি খুবই বিস্মিত। ' 
তবে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত ভিসা প্রত্যাহারের সংখ্যা ৬০ হাজার বলে জানানো হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব কনসুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের একজন মুখপাত্র ভার্জিনিয়া ইলিয়ট বলেন, 'ভিসা প্রত্যাহারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত মুসলমানদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে তারা যদি যুক্তরাষ্ট্রের মাটি ত্যাগ করে এবং আবার ফিরে আসতে চায় তবে তাদের ভিসা আর কার্যকর থাকবে না। ' 
তবে আলেকজান্দ্রিয়ায় আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে দেশটির অভিবাসন অফিসার এরেজ রুভেনি জানাতে পারেননি ডালাস বিমানবন্দর থেকে আসলে কতজনকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, 'বিমানবন্দরে আসা গ্রিন কার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। ' ভার্জিনিয়ার এক আইনজীবী জেনারেল স্টুয়ার্ট রাফায়েল জানিয়েছেন, 'যুক্তরাষ্ট্রে এ সমস্যা সমাধানে এমন বিচ্ছিন্নভাবে মামলা করা যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ না দেশটির ডালাস ও অন্যান্য বিমানবন্দর থেকে সঠিক কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তা জানা যাবে, ততক্ষণ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না। '
 তিনি আরও বলেন, 'এভাবে চলা খুবই সমস্যার। তবে আমি সন্তুষ্ট যে, তারা খারাপ মানুষকে ফেরত পাঠাতে চাইছে। আমি এই মাত্র জানতে পারলাম, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের কড়াকড়ির কারণে তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও লিবিয়ার এক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। '
 গত ২৮ জানুয়ারি সিরিয়াসহ সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশও চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন ট্রাম্প।                          

মন্তব্য