kalerkantho


সানি লিওনকে আদর্শ কর, ভালো নম্বর পাবে : ছাত্রীকে পরামর্শ শিক্ষকের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:০৬



সানি লিওনকে আদর্শ কর, ভালো নম্বর পাবে : ছাত্রীকে পরামর্শ শিক্ষকের

পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে একজন বয়ফ্রেন্ড রাখতে হবে, সানি লিওনকে আদর্শ বানাতে হবে এবং সেক্স টয় ব্যবহার করতে হবে। না, এটা ফেসবুকের কোনও পোস্ট নয়, ভাইরাল হওয়া কোনও ট্রলও নয়। স্কুলের প্রিন্সিপালের ছাত্রীকে দেওয়া “টিপস”।

ভারতের বেঙ্গালুরুর সদাশিবনগরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের ক্লাস টুয়েলভের এক ছাত্রীকে ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য এসবই করতে বললেন প্রিন্সিপ্যাল কুমার ঠাকুর। ২৬ জানুয়ারি সন্ধের ঘটনা। স্কুলের ফিজিক্স টিচার মিস্টার শনমুগম ছাত্রীটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রিন্সিপ্যালের চেম্বারে। তারপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। চেম্বারে একা পেয়ে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন প্রিন্সিপ্যাল। জানা যায়, মেয়েটিকে তিনি বলেছেন, “একজন বয়ফ্রেন্ড রাখো, সানি লিওনকে আদর্শ বানাও, সেক্স টয় ব্যবহার করো, আমার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করো। আমি তোমাকে আর্থিক দিক দিয়ে সাহায্য করব। এসব যদি না কর তবে ভালো নম্বর পাওয়ার সব সুযোগ তুমি হারাবে।

৩০ জানুয়ারি ঘটনার কথা জানিয়ে ওই ছাত্রী সদাশিবনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। ৩১ জানুয়ারি পুলিশ কুমার ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু, পরদিন তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। প্রসঙ্গত, ছাত্রীটির সঙ্গে এই ঘটনা ঘটার আগের দিন অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি নোডাল চাইল্ড লাইনের ডিরেক্টর বাসুদেব শর্মা DCP (সেন্ট্রাল ডিভিশন) ডক্টর চতন্দ্রগুপ্তাকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি জানান, ১৪ জানুয়ারি চাইল্ডলাইনের হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮-এ ফোন করে একজন বলেন যে, প্রিন্সিপ্যাল কুমার ঠাকুর গত তিনবছর ধরে স্কুলের ক্লাস টেন এবং টুয়েলভের ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করছেন। তিনি কোনও না কোনও কারণ দেখিয়ে মেয়েদের নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠান। তারপর তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। একথা স্কুলের অন্য ছাত্র ছাত্রীদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষক শিক্ষিকারাও জানেন। এরপর বাসুদেব শর্মা DCP-কে প্রিন্সিপ্যালের জামিন তুলে নেওয়ার আবেদন জানান। প্রিন্সিপ্যালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করতে গতকাল স্কুলে যায় একটি তদন্তকারী দল। ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে স্কুলের CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখবে পুলিশ।  

জানা যায়, ২০১৬-র ডিসেম্বরে আরও একটি মেয়েকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন কুমার ঠাকুর। তিনি মেয়েটিকে কিছু অশ্লীল ছবি দেখান এবং হোয়াটসঅ্যাপেও আপত্তিকর ছবি পাঠাতে থাকেন। স্কুলের আরও কয়েকজন ছাত্রী এমনকী অল্পবয়সী শিক্ষিকাদের সঙ্গেও এই আচরণ করেছেন প্রিন্সিপ্যাল কুমার ঠাকুর। - ওয়েবসাইট


মন্তব্য