kalerkantho


দিল্লিতে ধর্ষণ শেষে বিক্রি করা হলো কিশোরীকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৫:২৩



দিল্লিতে ধর্ষণ শেষে বিক্রি করা হলো কিশোরীকে

যাওয়ার কথা ছিল ছত্তিশগড়। কিন্তু ভুল ট্রেনে উঠে পৌঁছে যায় দিল্লি।

পড়ে যায় পাচারকারীদের নজরে। তারপরের তিন মাসে জীবনটাই বদলে গিয়েছিল ১৫ বছরের ওই কিশোরীর। নানা হাত ঘুরে একের পর এক ধর্ষণের শিকার হতে হয়। দিন কয়েক আগে ফাঁক বুঝে পালিয়ে আসতে পারে। ঘুরে বেড়াচ্ছিল দিল্লির হুমায়ুনের স্মৃতিসৌধের কাছে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করেছে মহিলা কমিশন। তার মুখ থেকেই টানা তিন মাসের ঘটনার বিবরণ শুনে চমকে যান কমিশনের সদস্যরা।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরে। ছত্তিশগড়ে এক আত্মীয়র বাড়ি যাবে বলে ট্রেনে উঠেছিল ১৫ বছরের ওই কিশোরী।

ভুল করে দিল্লিগামী ট্রেনে উঠে পড়ে। দিল্লিতে যখন গিয়ে পৌঁছায় তখন বেশ রাত। অচেনা মুখের মাঝে ভীষণ অসহায় লাগছিল। ভয় লাগছিল। কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। শেষে প্ল্যাটফর্মের এক পানি বিক্রেতা তার দিকে এগিয়ে আসে। সব শুনে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। বলেছিল পরের দিন সকালে ঠিক ট্রেনে তুলে দেবে। কিন্তু হয় ঠিক তার উল্টো। বাড়িতে নিয়ে গিয়েই তার ওপর নির্যাতন শুরু করে দেয় পানি বিক্রেতা আরমান। সারা রাত তাকে ধর্ষণ করে। আর সকাল হতে ৭০ হাজার টাকায় পাপ্পু যাদব নামে একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। এই পুরো ঘটনায় নাকি আরমানকে সঙ্গ দিয়েছিল তার স্ত্রী হাসিনা। ওই কিশোরী জানিয়েছে, এর পর পাপ্পু তাকে বিয়ে করবে বলে ফরিদাবাদে নিয়ে চলে যায়। পরের তিনটি মাস সেখানেই কাটে তার। রোজ তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত পাপ্পু। কয়েক দিন আগেই পাপ্পুর অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসে মেয়েটি। ফরিদাবাদের হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছে যায়। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি। স্টেশনেই দেখা হয়ে যায় আরমানের স্ত্রী হাসিনার সঙ্গে। ওষুধ মেশানো পানীয় খাইয়ে অজ্ঞান করার পর তাকে স্টেশনের বাইরে মহম্মদ আফরোজ নামে আর এক যুবকের কাছে ফের তুলে দেয় হাসিনা। স্টেশনের কাছেই এক অন্ধকার জায়গায় তাকে ধর্ষণ করে আফরোজ। হুঁশ ফিরলে কোনোক্রমে আফরোজের নাগাল থেকে পালায় ওই কিশোরী।


মন্তব্য