kalerkantho


পরিচয় ফেসবুকে, খুন ভোপালে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০২



পরিচয় ফেসবুকে, খুন ভোপালে!

ফেসবুকে আলাপ থেকে প্রেম। আর সেই প্রেমের টানে আমেরিকায় চাকরি করতে যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বের হওয়া। এরপর ভারতের ভোপালের সাকেত নগরে প্রেমিকের সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে শুরু করা। পরে ফোনে কথা বলার সময় বাঁকুড়ায় কর্মরত ব্যাংক ম্যানেজার বাবাকে বলা, আমেরিকা থেকে ফোন করছি। যার টানে ঘরছাড়া শেষ পর্যন্ত প্রেমিকা আকাঙ্ক্ষা শর্মাকে খুন করে মেঝেতে পুঁতে রেখে দিল সেই প্রেমিকই। ঘটনাটি ঘটেছে ভোপালের সাকেত নগরে।

বাঁকুড়া পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রেমিক উদয় দাসকে গ্রেপ্তার করেছে ভোপাল পুলিশ। খুনে সাহায্যকারী আরেক যুবকের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মেঝের মার্বেল খুঁড়ে আকাঙ্ক্ষা শর্মার লাশ উদ্ধারের কাজ চলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে কর্মসূত্রে বাঁকুড়ায় থাকেন আকাঙ্ক্ষার বাবা। বাবা–মা তাকে আদর করে ডাকতেন শ্বেতা বলে।

জানা গেছে, আদতে পাটনার বাসিন্দা হলেও আকাঙ্ক্ষার পড়াশোনা দিল্লিতে। সেই কারণে দিল্লিতেই থাকতেন আকাঙ্ক্ষা। পড়াশোনার ফাঁকে সময় কাটাতেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। সেখানেই ভোপালের উদয় দাসের সঙ্গে তার পরিচয়। উদয়ও দিল্লিতে থাকতেন। দ্রুত দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ, ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, সম্পর্কের টানেই গত বছর জুন মাসে ভোপালের পথে উদয়ের সঙ্গে পা বাড়ান আকাঙ্ক্ষা। সেখানে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। যাওয়ার আগে বাবাকে বলেন আমেরিকায় চাকরি করতে যাচ্ছেন। বাবার সঙ্গে ফোনে নিয়মিত কথা হতে থাকে। এক সময় বাবাকে আকাঙ্ক্ষা জানান, আমেরিকা থেকে ফোন করছেন। মোবাইল রোমিংয়ে আছে। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষদিক থেকে ফোন আসা বন্ধ হয়ে যায়। উদ্বিগ্ন বাবা যোগাযোগ করেন বাঁকুড়া পুলিশের সঙ্গে। মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে মোবাইল নম্বর ধরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে ভোপালের সাকেত নগরের নবীনপুরা এলাকায় শেষ কয়েক মাসের অবস্থান পাওয়া যাচ্ছে। সঙ্গে আরেকটি নম্বরের সঙ্গে দিনে কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে এমনটা দেখা যায়। জানা যায়, নম্বরটি উদয় দাস নামে এক যুবকের। মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান থেকে উদয়ের বাড়ির ঠিকানায় পৌঁছে যায় বাঁকুড়ার পুলিশ। যোগাযোগ করে ভোপাল পুলিশের সঙ্গে। টানা জেরার পর উদয় স্বীকার করে ডিসেম্বরে আকাঙ্ক্ষাকে খুন করে বাক্সে ভরে ঘরের মধ্যে পুঁতে দিয়েছে। এক বন্ধু এ কাজে তাকে সাহায্য করেছে।

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হিরা জানিয়েছেন, উদয়ের স্বীকারোক্তির পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রেম কী করে দ্রুত আক্রোশে পরিণত হল?‌ এক সঙ্গে থাকতে শুরু করার পর কী কারণে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গোলমাল?‌ কেনই বা উদয় আকাঙ্ক্ষাকে খুন করল?‌ উদয়কে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তের প্রয়োজনে উদয়কে নিয়ে আসা হতে পারে বাঁকুড়ায়।

সূত্র : আজকাল


মন্তব্য