kalerkantho


ফোর্বসের উদ্যোগপতিদের তালিকায় এই তরুণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:০১



ফোর্বসের উদ্যোগপতিদের তালিকায় এই তরুণ

কয়েক বছর আগের ঘটনা। দিল্লির একটি হাসপাতালে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্যের মুখোমুখি হলেন শিবকুমার পালানিস্বামী নামে এক ইঞ্জিনিয়ার।

সদ্যোজাত কয়েকটি শিশুকে সেখানে ছোট একটা জায়গায় গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। বাচ্চা গুলোর গায়ে কোনও আচ্ছাদন নেই। ওপর থেকে ঝুলছে একটা নীল আলো। এভাবেই জন্ডিসের চিকিৎসা চলছে ওই বাচ্চাগুলির। কিন্তু এ রকম অস্বাস্থ্যকর ভাবে আদৌ কতটা চিকিৎসা হচ্ছে তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান শিবকুমার। হাসপাতাল থেকে তাঁকে বলা হয়, এর থেকে উন্নত প্রযুক্তি তাদের কাছে নেই।

সেই সময় আমেরিকায় অধ্যায়নরত শিবকুমার ফিরে গিয়ে তাঁর সহপাঠী বিবেক কোপ্পারথির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। সদ্যোজাতদের চিকিৎসায় কম খরচে উন্নত প্রযুক্তির কিছু ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সারা বিশ্বের এই সমস্যা মেটাতে ২০১৪ সালে তাঁরা একসঙ্গে প্রথম স্থাপন করেন নিওলাইট নামে একটি সংস্থা।

প্রথম ১৮ মাস নিজেদের সঞ্চিত অর্থ দিয়েই কম্পানি চালান তাঁরা। ধীরে ধীরে এই কম্পানির নাম ছড়িয়ে পড়ে। সদ্যোজাতদের চিকিৎসায় নিওলাইট যাত্রা শুরু করে ১০ জন ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে।

বর্তমান ব্যবস্থায় একটি সদ্যোজাত শিশুর জন্ডিস ধরা পড়লে তাকে তার পরিবারের থেকে আলাদা থাকতে বাধ্য করা হয়। কারণ বর্তমান প্রযুক্তিতে চিকিৎসার যন্ত্রটি কাজ করার জন্য যে তাপমাত্রা ও হিউমিডিটির প্রয়োজন তা আইসিইউ এর বাইরে সম্ভব নয়। এতে যেমন সদ্যোজাতের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, তেমনই তার পরিবারের ওপরও মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। সদ্যোজাতের জন্ডিসের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকায় সারা বিশ্বে প্রতি ঘণ্টায় ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়। এই অবস্থায় সদ্যোজাতের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ফোর্বসের ৩০ অনুর্ধ্ব উদ্যোগপতিদের তালিকায় ঢুকে পড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক কোপ্পারথি।

সৌরশক্তি ও ব্যাটারিতে চলে নিওলাইট। বর্তমান যে কোনও প্রযুক্তির চেয়ে নিওলাইট অনেক দ্রুত কাজ করে বলে দাবি করেছেন বিবেক। এতে সদ্যোজাত শিশুটিও অনেক আরামে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: এই সময়


মন্তব্য