kalerkantho


স্ত্রীকে খুন করে মার্বেলের বেদিতে পুরে পূজা দিত স্বামী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:২৬



স্ত্রীকে খুন করে মার্বেলের বেদিতে পুরে পূজা দিত স্বামী!

পশ্চিমবঙ্গের ভোপালে বাঁকুড়ার বাসিন্দা আকাঙ্ক্ষা শর্মার হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে ভোপালের বাসিন্দা আকাঙ্ক্ষার স্বামী উদয়ন দাস।

যদিও আকাঙ্ক্ষা এবং উদয়নের বিয়ে হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। আকাঙ্ক্ষাকে খুন করে নিজের বাড়িতেই ঘরের মধ্যে চৌবাচ্চা তৈরি করে আকাঙ্ক্ষাকে পুঁতে রেখেছিল উদয়ন। সেই চৌবাচ্চার চারপাশ মার্বেল পাথর দিয়ে ঢালাই করে রীতিমতো বেদির মতো তৈরি করে ফেলেছিল পাষণ্ড উদয়ন।

প্রায় ৬-৭ মাস আগে ঘটনার সূত্রপাত। বাঁকুড়ার মেয়ে আকাঙ্ক্ষা শর্মার সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ উদয় দাসের। উদয়ের বাড়ি ভোপালের সাকেতনগরে। বেশ কিছুদিন ফেসবুক-প্রেমের পর উদয়ের টানে ঘর ছাড়েন আকাঙ্ক্ষা। বাড়িতে বলে যান আমেরিকায় চাকরির জন্য যাচ্ছেন। মাসটা জুলাই-আগস্ট হবে।

আকাঙ্ক্ষার বাবা বাঁকুড়ার এক ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। বাবাকে তার পরে বেশ কয়েকবার ফোন করেছিলেন আকাঙ্ক্ষা। ফোনে বলেছিলেন আমেরিকায় রয়েছি। এই পর্যন্ত সব কিছু ঠিক ছিল। সময়টা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ। ফোন আসা বন্ধ হয়ে যায় আকাঙ্ক্ষার। শুধুই চলে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, এসএমএস-এ বার্তালাপ। সন্দেহ হয় বাবার। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। তদন্ত শুরু হয়। উঠে আসতে শুরু করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা জানিয়েছেন, তাদের অনুমান গত বছরের জুলাই মাসেই সম্ভবত আকাঙ্ক্ষাকে খুন করেছিল উদয়ন। তার পর থেকেই আকাঙ্ক্ষার দেহ বেদির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিল সে। শুধু তাই নয়, মার্বেলের ওই বেদির ওপরে ফুল রেখে নিয়মিত পুজোও করত উদয়ন। পুলিশই একথা স্বীকার করেছে। কিন্তু কেন সে এইভাবে বেদিতে পুজো করত, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ। যদিও তদন্তকারীদের ধারণা, কারো যাতে কোনো সন্দেহ না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পথ বেছে নেয় আকাঙ্ক্ষার স্বামী। বাড়ির বাইরে নীরবতা পালনের জন্য কাগজে লেখা বিজ্ঞপ্তিও ঝুলিয়েছিল সে।

আকাঙ্ক্ষার পরিবারের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত জুন মাসে বাড়ি ছেড়েছিল আকাঙ্ক্ষা। এর পর সোশাল মিডিয়াতেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত তার পরিবার। ডিসেম্বর থেকে মেয়ের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি আকঙ্ক্ষার বাবা-মায়ের। কিন্তু পুলিশের ধারণা, স্ত্রীকে খুন করে উদয়নই কয়েকমাস ধরে আকাঙ্ক্ষার  পরিবারকে বোকা বানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেল উদয়ন। উদয়নকে আরো জেরা করতে চায় পুলিশ।

 


মন্তব্য