kalerkantho


মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল বাসচাপা পড়া লোকটি, পথচারীরা তুলছিল ভিডিও!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৫১



মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল বাসচাপা পড়া লোকটি, পথচারীরা তুলছিল ভিডিও!

রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছিল আহত ছেলেটি কিন্তু সবাই তুলছিল তার ভিডিও। ছবি তোলা আর ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করার বাতিক কোন পর্যন্ত যেতে পারে এটা যেন তার জ্বলন্ত আর ন্যাক্কারজনক এক উদাহরণ।

গত বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের কর্নাটক রাজ্যের কোপ্পল এলাকায়।  

এনবিটি জানায়, সরকারি পরিবহন কোম্পানির দ্রুতগামী একটি বাস ১৮ বছর বয়সী তরুণ আনওয়ারকে চাপা দেয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ- দেরি করে হাসপাতালে নেওয়া। পুলিশ ও অন্যান্য সূত্র মতে- ঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে বেঁচে যেত ছেলেটি। ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র কয়েক মিনিটের পথ।

কিন্তু দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন আহত ছেলেটিকে উদ্ধারে না গিযে যার যার মোবাইল ফোনে তার ভিডিও করায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে পার হতে থাকে মূল্যবান সময়। ট্রাফিক পুলিশ সূত্র জানায়, ইখলাসপুর কোপ্পল এলাকার আনওয়ার আলী নামের ওই তরুণ সকালে ৮টা ৪০ মিনিটে সাইকেলে করে যাওয়ার পথে একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে যায়।

 

এসময় গুরুতর আহত হয়ে আশংকাজনক অবস্থায় পথে পড়ে থাকা আনওয়ার আশপাশ দিয়ে যাওয়া লোকজনের কাছে মিনতি করতে থাকেন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য।  

কিন্তু কারও মন গলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনওয়ারকে উদ্ধার করে পুলিশ আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হয়রানি-পেরেশানির মুখে পড়তে চায়নি তারা কেউ- তাই সবাই তামাশা দেখা আর ভিডিও তুলে সময় পার করে। তবে কেউ কেউ তাকে পানি পান করান। এদের মধ্যেই একজন একপর্যায়ে ১০৮ জরুরি নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। এর ২৫ মিনিট পরে অ্যম্বুলেন্স আসে।  

কোপ্পল সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সুরেশ জানান, ৯টা ১৫ মিনিটে গুরুতর অবস্থায় আনওয়ারকে হাসপাতালে আনা হয়। নিতম্বের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল তার। তবে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে।  

আনওয়ারকে হাসপাতালে নিতে তৎপর হওয়া ডিগ্রির ছাত্র শ্রীধর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমি এটা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যাই যে লোকজন তাকে সাহায্য করার বদলে মোবাইল ফোনে তার ওই অবস্থার ভিডিও করায় ব্যস্ত ছিল। আমি একজন অটোরিক্সা ড্রাইভারের সাহায্য চাই- সেও সাড়া না দিয়ে চলে যায়।  

প্রসঙ্গত, ভারতে দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার, হাসপাতালে পৌঁছানো ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সাধারণ জনগণের প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে।


মন্তব্য