kalerkantho


সিনেটের অনুমোদনে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের নিয়োগ চূড়ান্ত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:৩০



সিনেটের অনুমোদনে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের নিয়োগ চূড়ান্ত

ট্রাম্পের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার সিনেট অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক খবরে টিলারসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সিনেট অনুমোদন পাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পলিটিকোর খবরে বলা হয়েছে, টিলারসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫৬ জন সিনেটর। বিপরীতে তার নিয়োগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ৪৩ জন সিনেটর। অনুমোদন নিশ্চিত করে মার্কিন সিনেট।

গত সপ্তাহে মার্কিন বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সিনেট কমিটির অনুমোদন পান টিলারসন। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য দ্রুত ওই অনুমোদন জরুরি ছিল।

চলতি মাসেই নয় ঘণ্টার এক সিনেট শুনানিতে টিলারসন জানান, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ, বাণিজ্যচুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন বা মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্কের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন।

এক্সন মোবিলের সদ্য-সাবেক এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তিনি এখনই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে নন। মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার জড়িত থাকার গোয়েন্দা প্রতিবেদনও তিনি মেনে নিয়েছেন বলে সিনেটকে জানান।

টিলারসন সিনেটকে বলেন, কিছু বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতভিন্নতা রয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যরই আলোচনায় অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আর এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট। তিনি নিজেকে 'উদার ও স্বচ্ছ' বলে দাবি করেন।

মার্কিন শীর্ষ তেল কম্পানি এক্সন মোবিলের সাবেক প্রধান নির্বাহী রেক্স টিলারসন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বন্ধু। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

৬৪ বছর বয়সী টিলারসন ৪১ বছর ধরে এক্সন মোবিলে কাজ করছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কম্পানি রোসনেফটের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করেছেন। ২০১১ সালে রাশিয়ার ওপর মার্কিন আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় রোসনেফটের সঙ্গে এক্সনের যৌথ কাজের সমাপ্তি ঘটে। তখন রোসনেফটের সঙ্গে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ছিল এক্সনের। আর এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন টিলারসন। ২০১৩ সালে রুশ কর্তৃপক্ষ বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে টিলারসনকে 'অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ' পুরস্কার দেয়।

২০১৪ সালে রুশ ফেডারেশনে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অন্তর্ভুক্তির ফলে আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয় রাশিয়া। তখনও এই সিদ্ধান্তকে 'ক্ষতিকর' উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন টিলারসন।


মন্তব্য