kalerkantho


ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিলের অনুমোদন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:১২



ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিলের অনুমোদন

দীর্ঘ বিতর্কের পর ব্রিটিশ পার্লামেল্টে অনুমোদন পেয়েছে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত একটি বিল। এই বিলের অনুমোদন নিশ্চিত হওয়ার কারণে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এখন ব্রেক্সিট কার্যকর করার প্রশ্নে আলোচনা শুরু করতে পারবেন। তবে ব্রেক্সিট বিলের বিরোধিতা করেন দেশটির লেবারনেত্রী বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকী।

লেবার নেতৃত্বের সমর্থিত মঙ্গলবার লিসবন চুক্তির ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্রেক্সিট কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা শুরু করতে ব্রিটিশ পার্লামেল্টে একটি বিল আনা হয়। দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (নোটিফিকেশন অব উইদড্রয়াল) নামের বিলটি নিয়ে নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে দুই দিন ধরে  অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক। দুই দিনের বিতর্ক শেষে বুধবার বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ৪৯৮ এমপির মধ্যে বিল অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেন ৩৮৪জন। বিপক্ষে পড়ে ১১৪ ভোট। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি আবেং লিবারাল ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব বিলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এমপিদের কেউ কেউ আবার দলের বিরুদ্ধেও ভোট দিয়েছেন।

বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বিলটির পক্ষে থাকায় এটি নিরঙ্কুশভাবে পাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল আগে থেকেই। আগে থেকেই বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়ে রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।

গত সপ্তাহে ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন নর্থ লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড এবং কিলবার্ন এলাকার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, 'আমি আর্টিকেল ৫০ বাস্তবায়নের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করি। ফ্রন্টবেঞ্চে থেকে এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। '

অনুমোদন পাওয়া বিলটি আগামী সপ্তাহে হাউস অব কমন্সে ফেরত পাঠানো হবে। সেখানে বিরোধী দলগুলো এতে সংশোধনী আনার চেষ্টা করবে। এরপর বিলটি নিয়ে বিতর্কসহ অনুমোদনের জন্য এটি হাউস অব লর্ডসে পাঠানো হবে। হাউস অব লর্ডস এটি সংশোধনের পরামর্শ দিতে পারবে।

দ্য টাইমস এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার আগামী মার্চে ইউরোপীয় নেতাদের সম্মেলনে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য আইন পাস করতে আগ্রহী। সরকারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে হাউস অব লর্ডস-কে বলা হয়েছে, আগামী ৭ মার্চের মধ্যে তারা নতুন ব্রেক্সিট বিলের পাস করতে আগ্রহী।
চলতি বছরের ৯ মার্চ মাল্টায় দুই দিনের ইউরোপীয়ান কাউন্সিল সামিটে অংশ নেবেন ইইউ-ভুক্ত ২৮টি দেশের সরকারপ্রধানরা। পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে সেখানে বিষয়টি তুলে ধরতে চান থেরেসা মে।


মন্তব্য