kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারতে মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লেগিংস্, জিনস্ নিষিদ্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০৪:০৩



ভারতে মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লেগিংস্, জিনস্ নিষিদ্ধ

ডাক্তাররা যে পেশার সঙ্গে যুক্ত, তার সঙ্গে মানানসই নয় লেগিংস, জিনস্। নতুন প্রজন্মের ডাক্তারদের এই পোশাকে পেশাদার বলে মনে হয় না।

এই যুক্তি দেখিয়ে ডাক্তারি-শিক্ষার্থীদের পোশাক-বিধি বেঁধে দিল ত্রিবান্দ্রমের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ। কলেজের উপাচার্য বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ড্রেস-কোড মানা না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যে পোশাক-বিধি জারি হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পোশাক সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। মেয়েদেরও ফর্ম্যাল পোশাকই পড়তে হবে। ফর্ম্যাল বলতে এক্ষেত্রে শাড়ি বা চুড়িদার। পরিপাটি করে চুল বাঁধতে হবে। লেগিংস, জিন্স বা শর্ট টপ পরা যাবে না। ছেলেদেরও সবসময় জামা-জুতা পরে ফর্ম্যাল পোশাকে থাকতে হবে। জিন্স, টি-শার্ট বা অন্য কোনো ক্যাস্যুয়াল পোশাক পরা যাবে না।

কলেজের সহ-উপাচার্য ড. কে গিরিজা কুমারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা কোনো নতুন নিয়ম নয়। প্রতিবছরই এই নিয়মের কথা প্রকাশ করা হয়। তিনি আরও বলেন, এই নিয়ম জারির একটাই কারণ, শিক্ষার্থীরা যাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে কলেজে আসে। অনেক শিক্ষার্থীই নোংরাভাবে চলে আসে, তা বন্ধ করতেই এই নিয়মবিধি। কিন্তু এর সঙ্গে লেগিংস, জিন্স-এ নিষেধাজ্ঞার কী সম্পর্ক জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা প্রতিষ্ঠানেরই সিদ্ধান্ত। কিন্তু বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে দেখানোর পর সহ-উপাচার্য বলেন, যদি শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি থাকে, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, তারা যেন পরিচ্ছন্ন যথার্থ পোশাক পরে কলেজে আসে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, প্রথম বর্ষে কলেজে ভর্তির সময় কাগজে প্রিন্ট করা একটি পোশাক বিধি দেয়া হয়েছিল তাদের। কিন্তু এই প্রথম শিক্ষাবর্ষের মাঝখানে তাদের এই ধরনের পোশাকবিধি দেয়া হল। শিক্ষার্থীদের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের বিষয়টি তাঁদের মাথায় ঢুকলেও কেন লেগিংস বা জিন্স-এ নিষেধাজ্ঞা, সে বিষয়টি তাঁদের বোধগম্য হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, অনেক সময়ই শিক্ষকদের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে, মৌখিক বা ইন্টারনাল পরীক্ষায় নম্বর কমে যাওয়ার ভয়ে এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেন না তাঁরা। কিন্তু এই বিষয়টি লিখিতভাবে প্রিন্সিপালকে জানানো হবে বলে ঠিক করেছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, নতুন এই পোশাক বিধিতে অসন্তুষ্ট কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকাও। তাঁরা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক, লিঙ্গ পক্ষপাতদুষ্ট।

সূত্র: এবিপি আনন্দ


মন্তব্য