kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইভটিজারদের গাড়ি পিষে মারল ছাত্রীকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০৮:৪০



ইভটিজারদের গাড়ি পিষে মারল ছাত্রীকে

ভারতের হুগলির পোলবার পুনরাবৃত্তি পূর্ব মেদিনীপুরে। ইভটিজারদের দৌরাত্ম্যে প্রাণ গেল এক স্কুলছাত্রীর।

মৃত ছাত্রীর নাম আল্পনা বাগ (নাম পরিবর্তিত)। আহত হয়েছেন সহপাঠী আরও দুই ছাত্রী। প্রত্যেকেই তাজপুর হাই স্কুলে ক্লাস ইলেভেনের ছাত্রী। গতকাল বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে হলদিয়া-মেচেদা ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর। দুর্ঘটনার পর নয়নজুলিতে উলটে যায় গাড়িটি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন ছাত্রী নন্দকুমার থানার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা। সপ্তাহে তিন দিন করে মহিষাদলে টিউশন পড়তে যায় তারা। বাড়ি থেকে তারা হেঁটে মহিষাদল থানার গাড়ুঘাটা বাস স্টপেজে গিয়ে ট্রেকার ধরে মহিষাদল যায়। ছাত্রীদের বাড়ি থেকে গাড়ুঘাটা বাস স্টপেজের দূরত্ব প্রায় হাফ কিলোমিটার। অন্যদিনের মতো আজও পায়ে হেঁটে হলদিয়া-মেচেদা জাতীয় সড়ক ধরে গাড়ুঘাটার দিকে যাচ্ছিল তারা। ওই সময় পিছন থেকে একটি সুইফ্ট ডিজায়ার গাড়ি নিয়ে আসছিল দুই যুবক। অভিযোগ, চলন্ত গাড়ি থেকেই তারা ছাত্রীদের উদ্দেশে কটূক্তি করছিল। এরপর তাজপুর ও গাড়ুঘাটা বাসস্ট্যান্ডের মাঝে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন ছাত্রীকে ধাক্কা মেরে উলটে যায় পাশের নয়নজুলিতে।

বিকট আওয়াজ পেয়ে সেখানে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। তিন ছাত্রীকেই উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। গাড়িতে থাকা এক যুবককেও ওই ছাত্রীদের চিকিৎসার জন্য  তমলুকে পাঠানো হয়। সুব্রত মাইতি নামে অপর যুবককে আটকে রাখেন তাঁরা। তমলুক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসকরা এক ছাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর দুই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

খবর পেয়ে মহিষাদল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের সামনে গাড়ির চালক ও তার সহযোগীর শাস্তির দাবিতে সরব হয় এলাকাবাসী। সুব্রত মাইতিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বাসিন্দারা। তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিষাদল থানার  ওসি অজিত ঝা।

পঙ্কজ পাত্র নামে এক এলাকাবাসী বলেন, রাস্তার বাঁদিক ধরে যাচ্ছিল ওই তিন ছাত্রী। পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা গাড়িটি তাদের ধাক্কা মেরে নয়নজুলিতে উলটে যায়। গাড়িতে থাকা কমবয়সী দুই যুবক মেয়েদের ইভটিজ়িং করার জন্য তাদের দিকে গাড়িটি নিয়ে ধেয়ে যায়। সেইসময় গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে স্থানীয়দের তরফে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, আটক যুবকের বাড়ি হলদিয়ার ভবানীপুর থানা এলাকায়। তমলুকের পরিবহন দপ্তরে গাড়ির কাগজপত্র রিনিউ করাতে এসেছিল তারা। ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।


মন্তব্য