kalerkantho


আবহাওয়ার পরিবর্তনে শুকিয়ে যাচ্ছে 'ড্রাগনের রক্ত'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৩৬



আবহাওয়ার পরিবর্তনে শুকিয়ে যাচ্ছে 'ড্রাগনের রক্ত'

ইয়েমেনের ড্রাগন ব্লাড ট্রি এক বিস্ময়কর গাছ। উদ্ভিদবিজ্ঞানে তার পরিচয় ড্র্যাকেইনা সিনাবারি।

ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া এই গাছ বিশ্বের আর কোথাও জন্মায় না। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান গাছগুলি আসলে প্রাগৈতিহাসিক অরণ্যের অবশিষ্টাংশ। প্রায় সাড়ে তিন কোটি বছর আগে মূল আরব ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ। এই কারণে চারটি দ্বীপে বিবর্তনের প্রভাব পড়েনি। প্রকৃতির খেয়ালে তাই এখানে পরিবর্তনের ছাপ পড়েনি। তার জেরেই এখনও টিকে রয়েছে অতি প্রাচীন হরেক রকম প্রজাতির গাছ।

বর্ষায় সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জের আবহাওয়া ভিজে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। বাতাসে উপস্থিত জলকণা পাতার সাহায্যে শুষে নেয় ড্রাগন ব্লাড ট্রি। তারপর শাখা-প্রশাখা এবং শিকড়ের সাহায্যে গাছের সারা শরীরে তা পৌঁছে যায়। গাছের ওপরের অংশে থাকে সবুজ পাতার ঠাসবুনোট, যা দূর থেকে ছাতার মতো দেখায়।

এই গাছে ছোট কুলের মতো টকটকে লাল রঙের ফল হয়। গবাদি পশুকে স্বল্প পরিমাণে তা খাওয়ালে তাদের স্বাস্থ্যের উল্লেখজনক উন্নতি হয়। তবে বেশি খেলে স্বাস্থ্যহানিও হতে পারে।

গাছের গুঁড়ি থেকে ঘন লাল রঙের আঠা বের হয় যা বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ এবং রং তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। ৬০ খ্রিস্টাব্দেও বিভিন্ন দেশে এই আঠা রপ্তানি করা হত। মনে করা হয়, বিশ্বখ্যাত স্ট্র্যাডিভ্যারিয়াস বেহালা রাঙাতেও তা ব্যবহার করা হত। গাছের গাঢ় লাল রস থেকেই স্থানীয়দের মুখে গাছটির নাম হয় ড্রাগন ব্লাড ট্রি।

তবে দূষণের কারণে ক্রমেই এই বিরল গাছের অস্তিত্ব সঙ্কটময় হয়ে উঠেছে। আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তনের জেরে আর্দ্রতা হারাচ্ছে এই অঞ্চলের বাতাস। ফলে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে ড্রাগন ব্লাড ট্রি-রা। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী ২০৮০ সালের মধ্যে পৃথিবীর বুক থেকে চিরবিদায় নেবে প্রকৃতির অন্যতম আদিম সন্তান।


মন্তব্য