kalerkantho


পরিবেশ বাঁচাতে ১৭০টি রাষ্ট্র একজোট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০১:৪১



পরিবেশ বাঁচাতে ১৭০টি রাষ্ট্র একজোট

প্যারিস চুক্তির পর এবার কিগালি চুক্তি৷ পরিবেশ বাঁচাতে আরও একধাপ এগোল রাষ্ট্রশক্তিগুলি৷ ১৭০টি দেশ একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিল- এসি, রেফ্রিজারেটারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করলেও, তাতে গ্রিনহাউস গ্যাসের ব্যবহার কমানো হবে৷ চুক্তিতে ধার্য করা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই ক্ষতিকর গ্যাসের ব্যবহার ৮০ শতাংশের বেশি কমিয়ে আনবে দেশগুলি৷ আর এমনটা করতে পারলে, লাগাম পরানো যাবে বিশ্বের বাড়তে থাকা তাপমাত্রায়৷ প্যারিস চুক্তির মতো চর্চিত না হলেও, নয়া এই সমঝোতা আগামী দিনে বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের৷

আফ্রিকার রোয়ান্দায় শুক্রবার একত্রিত হন ১৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা৷ সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, নিয়ন্ত্রণ করা হবে হাইড্রোফ্লুরোকার্বন গ্যাসের ব্যবহার৷ যা বাড়ির এসি, রেফ্রিজারেটারের পাশাপাশি গাড়ির এসিতেও ব্যবহার করা হয়৷ কিন্ত্ত, চুক্তির জন্য এই হাইড্রোফ্লুরোকার্বনকেই বাছা হল কেন? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বাতাসে যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস রয়েছে, তার মধ্যে হাইড্রোফ্লুরোকার্বনের উপস্থিতি খুবই সামান্য৷ কিন্ত্ত, পরিমাণে কম হলেও, এই গ্যাস কাজে অনেক বেশি ক্ষতিকর! বৈজ্ঞানিক ভাষায় এটা ‘সুপারচার্জড গ্রিনহাউস গ্যাস’৷ যা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের থেকে হাজার গুণ বেশি উষ্ণ করে তুলতে পারে পরিবেশকে৷ সেই কারণেই এই গ্যাস নিয়ন্ত্রণে এত তোড়জোড়৷

চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে হাইড্রোফ্লুরোকার্বনের ব্যবহার কমাবে দেশগুলি৷ তবে, সেই দেশের তালিকাতেও আবার অনেক ভাগ আছে৷ কিগালির এই সমঝোতায় ঠিক হয়েছে, সবার প্রথমে আসরে নামবে ধনী দেশগুলি৷ ২০১৯ থেকে হাইড্রোফ্লুরোকার্বনের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমাবে আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলি৷ তারপর কাজ শুরু করবে চিন, ভারত, পাকিস্তানরা৷ আর এখানেই চুক্তির সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে৷ তাঁদের বক্তব্য, বিশ্বে সবথেকে বেশি হাইড্রোফ্লুরোকার্বন তো চিন উত্‍পন্ন করে, তাহলে তাদের কেন অবিলম্বে এই গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হবে না? প্রসঙ্গত, চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৯-এর আগে চিনের হাইড্রোফ্লুরোকার্বনের ব্যবহার কমানোর কোনও সম্ভাবনা নেই৷ ভারত, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তো এই লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি৷ ২০৩২৷ এই পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি,‘বিদায় বেলায় ওবামা প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে দেখানোর জন্যই তড়িঘড়ি এই চুক্তি সই করালো আমেরিকা৷ কাজ হাসিল করতেই ছাড় দেওয়া হল চিন এবং ভারতকে৷’যদিও, তাঁদের সঙ্গে সহমত নন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই৷ তাঁদের বক্তব্য,‘এই চুক্তি বাস্তবায়িত করতে পারলে, ২০৫০-এর মধ্যে অনেকটা সাফ হয়ে যাবে শহর এলাকার বাতাস৷ যা প্রায় ৭ হাজার কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড কমে যাওয়ার সামিল!’

কিগালির এই চুক্তিতে উচ্ছ্বসিত বারাক ওবামা৷ এই চুক্তির অন্যতম কারিগর বিদেশ সচিব জন কেরিকে অভিনন্দন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উক্তি,‘অসন্ন বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এটা একটা সাহসী এবং সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত৷’চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর কেরি বলেন,‘এই পরিস্থিতিতে একলপ্তে নেওয়া এটাই সবথেকে বড় সিদ্ধান্ত৷’পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে অল্প অল্প করে বেড়ে চলেছে বিশ্বের তাপমাত্রা৷ বিশেষজ্ঞদের আশা, এই চুক্তি ঠিকভাবে কার্যকর করতে পারলে, ২০৪৫-এ গিয়ে উষ্ণায়ন আধ ডিগ্রি অন্তত কমানো যাবে৷

সূত্র: এই সময়

। ।

মন্তব্য