kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্তন ক্যানসার নিয়ে ঠাট্টার প্রতিবাদে পাক তরুণী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:১৭



স্তন ক্যানসার নিয়ে ঠাট্টার প্রতিবাদে পাক তরুণী

অন্য দিনের মতোই কলেজের পর গাড়িতে উঠবেন বলে এগোচ্ছিলেন ফামা হাসান৷ ইসলামাবাদের একটি কলেজের পড়ুয়া৷ কানে এল সেই কলেজেরই এক দল ছেলের কথা আর হাসাহাসি৷ আলোচনার বিষয়টা শুনে অবশ্য শিউরে উঠেছিলেন তিনি৷ স্তন ক্যান্সার৷ এর পর আর চুপ করে থাকতে পারেননি ফামা৷ বাড়ি ফিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন৷ সেই বর্ণনা থেকে মনে হয়, সে দিন তাঁদের কলেজে স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনও প্রচার চালানো হয়েছিল৷ আর তার পরেই মশগুল হয়ে মজা করছিলেন জনা তিন-চারেক যুবক৷ যাঁদের দেখে সপ্তম বা অষ্টম সেমেস্টারের পড়ুয়া বলে মনে হয়েছে ফামার৷

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ওই ছেলেদের এক জন অন্যদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন,কী নিয়ে এত কথা বলছিল রে? জবাবে অন্য এক জন বলেন, আর বলিস না, স্তন ক্যান্সার নিয়ে কিছু বলতে এসেছিল৷ তাই নিয়ে বলেই যাচ্ছিল৷ স্তনশব্দটির উল্লেখমাত্রেই তাঁরা একে অন্যকে ইঙ্গিত করে হাসতে থাকেন এবং কয়েক মুহূর্ত পর হাসিতে ফেটে পড়েন৷ ফামার ভাষায়,বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি পর্যন্ত পুরো রাস্তাটা আমি ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলাম৷ আর এখন এটা লেখার সময়ও শিউরে উঠছি৷ এ রকম একটা সমাজ, যেখানে মানবদেহের মৌলিক অঙ্গগুলিকে এমন মাত্রায় যৌনায়িত করা হয় যে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্যান্সারও ঠাট্টা-তামাশার বিষয় হয়ে উঠতে পারে৷ ঠিক যে রকম ট্রাম্পের একটা জোক নিয়ে আমরা এখন কথা বলছি৷

এর পর ক্যান্সার নিয়ে কিছু গুরুতর তথ্য দিয়েছেন এই কলেজ ছাত্রী ৷ পাকিস্তানে যে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার মহিলার মৃত্যু হয় স্তন ক্যান্সারে বা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সে দেশেই স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, সেই কথাগুলির উল্লেখ করে সামজিক সচেতনতা ও সংবেদনশীলতার অভাবকে এর জন্য দায়ী করেছেন ফামা৷ কলেজের সিনিয়রদের উদাহরণ দিয়ে তাঁর আক্ষেপ, ওরা জানতেই পারে না, ঠিক এই সামাজিক পরিস্থিতির কারণেই মহিলারা সহজে চিকিত্‍সকের কাছে যেতে চান না৷ তাঁদের সমস্যাগুলো নিয়ে এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও খোলাখুলি কথা বলতে চান না৷ আর রোগ ধরা পড়তেই এত দেরি হয়ে যায় যে, শেষ পর্যন্ত তাঁদের মরতে হয়৷

স্তন ক্যান্সার নিয়ে কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করতে গেলে সচেতনতা বাড়ানোটাই যে সবচেয়ে বেশি জরুরি, সে কথাও বলেছেন তিনি৷ জানিয়েছেন, অনেকের কাছেই এমন কথা শুনেছেন যে, কোনও বিষয়কে সমর্থন করলে বসে বসে কথা না বলে কিছু কাজের কাজ করা উচিত৷ কিন্ত্ত ফামার মতে কিছু করার আগে কথা বলে মানুষকে বোঝানোটা জরুরি৷ তা না করা হলে কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে যখন তাঁদের কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রচার চালানোর মতো পদক্ষেপ করা হয়, তখন এ ধরনের অশিক্ষিত নির্বোধদের মোকাবিলা করতে হয় তাঁদের৷

 


মন্তব্য