kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হিলারির ট্রাম্প কার্ড মিশেল ওবামা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:১৫



হিলারির ট্রাম্প কার্ড মিশেল ওবামা

শুরুতে লড়াইটা ছিল, ট্রাম্প বনাম হিলারির। কিন্তু, এখন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ট্রাম্প বনাম গোটা নারী সমাজ! আর এই যুদ্ধে হিলারি শিবিরের অঘোষিত সেনাপতি, মিশেল ওবামা।

এক কথায়, ট্রাম্পকে কাত করতে তিনিই এখন হিলারির ট্রাম্প কার্ড! একের পর এক সভা থেকে ট্রাম্পকে তুলোধনা করছেন যিনি। তবে, পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণ অবশ্য কীর্তিমান ট্রাম্প নিজেই! প্রতিদিনই আমেরিকার কোনও না কোনও প্রান্ত থেকে শোনা যাচ্ছে তাঁর অভব্য-অশালীন আচরণের ইতিকথা! প্রতিদিনই সামনে আসছেন কেউ না কেউ। যেমন শুক্রবার রিপাবলিকান প্রার্থীর আচরণ নিয়ে মুখ খুললেন পিপ্ল পত্রিকার লেখিকা নাতাশা স্টয়নফ। এই পরিস্থিতিতে যত সময় যাচ্ছে মহিলাদের একাংশে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ততই বাড়ছে। যে ক্ষোভকে কাজে লাগাতেই উঠে পড়ে লেগেছে ডেমোক্র্যাটরা। আর এই মিশনে হিলারির ব্রহ্মাস্ত্র, মিশেল! ওবামা প্রশাসনের আট বছরে রাজনীতির ময়দানে যাঁকে তেমন একটা সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। এমনকি, যিনি নিজেই বার বার জানিয়েছেন রাজনীতি তিনি কতটা অপছন্দ করেন! এহেন মিশেল ওবামাই এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন। অন্তত তেমনই ইঙ্গিত পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

সেপ্টেম্বর থেকেই হিলারি ক্লিন্টনের হয়ে ময়দানে নেমেছেন ওবামা-পত্নী। ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় সম্মেলন থেকে প্রচার সভা-সর্বত্রই ভাষণ দিয়েছেন, ভোট চেয়েছেন। কিন্ত্ত, বৃহস্পতিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারের সভা থেকে যে ভাবে ট্রাম্পকে ধারালো ফলায় বিদ্ধ করলেন তিনি, তা দেখে হতবাক বহু ডেমোক্র্যাটও! রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে, মঞ্চ থেকে তিনি গর্জে ওঠেন একজন নারী হিসেবে। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, মহিলাদের সম্পর্কে ট্রাম্প যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা আমাকে অন্তর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এমন কুরুচিকর মন্তব্য মহিলাদের শিক্ষা, দীক্ষা, বুদ্ধি-সব কিছুর অপমান। কেউ যদি মনে করেন তিনি মহিলাদের সঙ্গে যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন, তাহলে সেটা হিংস্রতার লক্ষ্মণ। তবে, এমন কথা শুনলে ভয়ের থেকেও বেশি, মন খারাপ হয়। মনে হয় সত্যিই কি মেয়েরা এতটাই সহজলভ্য! ট্রাম্পের যে উক্তি নিয়ে এভাবে ক্ষোভ উগরে দিলেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি, সেই উক্তি প্রকাশ্যে আসার পর নাক সিঁটকেছেন অনেকেই। বিতর্কিত এই ফুটেজে ডোনাল্ড সগর্বে জাহির করেছেন, কী ভাবে মহিলাদের সঙ্গে মর্জিমতো আচরণ করে বেড়ান তিনি! ফুটেজ নিয়ে ঝড় ওঠার পর আবার কায়দা করে সাফাইও দিয়েছেন, বলেছেন, এটা নাকি ঠাট্টার ছলে বলেছেন তিনি! এমন ঠাট্টার রুচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিশেল। বলেন, এটা তো সভ্য পুরুষদেরও অপমান করা! এখানেই থামেননি হার্ভার্ডের স্নাতক। কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়ে বলেন, এ ধরনের আচরণের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটা কোনওভাবেই সহ্য করা যায় না। মহিলাদের সম্পর্কে এ ধরনের ভাষা বরদাস্ত করা উচিত নয়। এটাকে এখানেই থামান। চোখে-মুখে ক্ষোভ নিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে যখন এই কথাগুলো বললেন মিশেল, তখন মঞ্চের চারপাশে হাততালির ঝড়। শ্রোতাদের অধিকাংশই মহিলা। তাঁদেরও চোখে-মুখেও ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে মিশেলের ক্ষোভ। রণংদেহি এক নারীর পাশাপাশি এ দিন এক সাধারণ মায়ের উত্কণ্ঠাও শোনা যায় ওবামা-পত্নীর গলায়। সরাসরি ট্রাম্পের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, আজ যদি হিলারির এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে আমরা জেতার সুযোগ করে দিই, তা হলে আমাদের কন্যাসন্তানদের ভয়াবহ এক পরিবেশের দিকে ঠেলে দেব আমরা। যেখানে মহিলাদের অপমান করাটাও কোনও অপরাধ নয়!

মিশেলের এহেন ধারালো ভাষণে অবাক অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, এতটা চাঁচাছোলা ভাষায় তো এখনও বারাক ওবামা নিজেও ট্রাম্পকে আক্রমণ করেননি! হিলারির তো প্রশ্নই ওঠে না কারণ, চরিত্র নিয়ে ট্রাম্পকে সজোরে ইট মারতে গেলে, বিল ক্লিন্টনের দিকে আসা পাটকেল তো তাঁকেই হজম করতে হবে! মিশেলের তেমন কোনও মাথাব্যাথা নেই। ফলে, আক্রমণের পথে তাঁর কোনও বাধাও নেই। আর এটাই এখন ঘুম কেড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কারণ, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী হলেও, চিরকাল প্রচলিত রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে নিজেকে দূরেই রেখেছেন মিশেল। ফলে, তাঁকে জড়িয়ে কোনও বিতর্ক খুঁড়ে বের করা বেশ কঠিন। পাশাপাশি, ফার্স্ট লেডি হিসেবে সাধারণ আমেরিকাবাসীর মধ্যে মিশেলের জনপ্রিয়তা মারাত্মক। এহেন মিশেল মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে, ভোটবাক্সে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। মিশেলের মিসাইলের সামনে ট্রাম্প যে বেশ চাপে, তা স্পষ্ট হয়ে যায় এদিন রিপাবলিকান প্রার্থীর সভাতেই। যেখানে বেশিরভাগ সময়টাই অভিযোগ অস্বীকার করে কাটান তিনি। বাকিটা ক্লিন্টনদের আক্রমণ করে। যদিও, তাতে কি আর আগুন নেভানো যায়! সিএনএন থেকে এমএসএনবিসি-সব চ্যানেলেই একদিকে মিশেলের আক্রমণ অন্য দিকে নাতাশার অভিযোগ।

২০০৬-এ ডোনাল্ডের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে একটি রিপোর্ট লিখেছিলেন নাতাশা। সেই কাজের সূত্রেই শিল্পপতির সাক্ষাত্কার নিতে গিয়েছিলেন তিনি। নাতাশার অভিযোগ, ‘একান্তে কথা বলার নাম করে, একটি ঘরে নিয়ে যান ট্রাম্প। তারপর ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। আমি কিছু বলার আগেই আমাকে দেওয়ালে চেপে ধরে চুমু খেতে শুরু করেন। ’ নাতাশা প্রথম নন, এর আগে কমপক্ষে হাফ ডজন মহিলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ করেছেন। মডেল থেকে সাংবাদিক-কে নেই সেই তালিকায়! এবারও যথারীতি ট্রাম্প শিবিরের তরফে দাবি করা হয়েছে, ‘এই অভিযোগ বানানো’। যদিও, তেমনটা মনে করেন না পিপল পত্রিকার সহকারী সম্পাদক জে ডি হেম্যান। তাঁর মনে এখনও গেঁথে আছে, ঘটনার পর কতটা ভেঙে পড়েছিলেন নাতাশা। তাই, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়তে হবে জেনেও তিনি বলেন, ‘এই গল্প বানানো নয়। আমরা অন্য কোনও পত্রিকার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে এমন অভিযোগ করছি না। এর গোটাটাই সত্যি।

 


মন্তব্য