kalerkantho


সাংবাদিকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল পাকিস্তান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০১:৫৫



সাংবাদিকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল পাকিস্তান

‘ডন’-এর সাংবাদিক সিরিল আলমেইদার ওপর জারি হওয়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল পাকিস্তান। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলিকে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের তলে তলে মদত দেয়ার ব্যাপারে দেশের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে তুমুল বিরোধ রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করায় শাসক শিবিরের চক্ষুশূল হন তিনি।

তবে তাঁর নাম একজিট কন্ট্রোল লিস্টে ওঠার পর সে দেশের সাংবাদিককূল, মিডিয়া সংস্থাগুলি ও নাগরিক সমাজ প্রতিবাদে মুখর হয়। তাদের চাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

পাকিস্তানের ওই নামজাদা সাংবাদিক প্রতিবেদনে লিখেছিলেন, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলিকে আইএসআইয়ের মদত দেয়া নিয়ে সম্প্রতি এক বৈঠকে তুমুল কথাকাটাকাটি হয়েছে পাক সরকারের সঙ্গে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের। এতেই ক্ষেপে যায় সরকার-প্রশাসন।

এদিকে আলমেইদার দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা সাংবাদিক সংগঠনগুলির সঙ্গে ইসলামাবাদে কথা বলেন পাক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী নিসার আলি খান। তিনি অল পাকিস্তান নিউজপেপার সোসাইটি ও কাউন্সিল অব পাকিস্তান নিউজপেপার এডিটর্স—এই দুই সংস্থার প্রতিনিধিদের কথা শোনেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে, সৌহার্দ্যমূলক পদক্ষেপ হিসাবে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রক একজিট কন্ট্রোল লিস্ট থেকে ওই সাংবাদিকের নাম বাদ দিতে নির্দেশ দিচ্ছে যিনি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত বৈঠক সম্পর্কে ভুল, রং চড়ানো খবর লিখেছেন। সাংবাদিকদের সামনেও নিসার জানিয়ে দেন, মিডিয়া স্বাধীন, তবে তাদের শুধু জাতীয় স্বার্থ ‘সুরক্ষিত’ রাখলেই চলবে না, রাষ্ট্রের শত্রুদের মিথ্যা প্রচারেরও জবাব দিতে হবে।

এদিন পাক সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরেও গত সপ্তাহের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রশ্নে সামরিক ও সরকারি শীর্ষ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘাত, উত্তপ্ত বাদানুবাদের খবর সংবাদপত্রে বেরনোয় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়। আজ রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনার সদর দপ্তরে কোর কমান্ডারদের ওই কনফারেন্সে পৌরহিত্য করেন চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল রাহিল শরিফ। পরে সেনাবাহিনীর তরফে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হওয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি আলোচনা  সম্পর্কে মিথ্যা, ভুল, অতিরঞ্জিত খবর ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ জানান বৈঠকে উপস্থিত লোকজন।

গত ৬ অক্টোবর ‘ডন’ সংবাদপত্রে ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই পাক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সেনা, সরকারের মধ্যে কোনোরকম বিরোধ, সংঘাত হওয়ার খবর বারবার অস্বীকার করা হয়েছে। পাল্টা ‘দি ডন’-ও ‘মিথ্যা রিপোর্টিং’, ‘নোংরা স্বার্থপূরণে’র অভিযোগ খারিজ করে জানিয়ে দেয়, আলমেইদার দেওয়া খবরের সত্যতা যাচাই করেই দেখেই ছাপা হয়েছে।

সূত্র: এবিপি আনন্দ


মন্তব্য