kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রায় ধ্বংসের মুখে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাল প্রাচীর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০১:২৭



প্রায় ধ্বংসের মুখে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাল প্রাচীর

প্রায় ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাল প্রাচীর৷ যে প্রাচীরকে পৃথিবীর অন্যতম ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তা কার্যত বিলুপ্ত হওয়ার পথে এমনটাই মনে করছেন প্রকৃতিবিদরা৷

সম্প্রতি জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করছেন ৩৫ শতাংশ প্রবালের মৃত্যু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়৷ এই মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি৷ এই উচ্চ তাপমাত্রার ফলে একসঙ্গে একটি এলাকার সমস্ত প্রবাল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে৷ এর আগে গত ৩০ বছরে একসঙ্গে এত প্রবালের মৃত্যু হয়নি বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷

বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হওয়ার ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকছে না সবাই জানে৷ কিন্তু ক্রমাগত এই তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে এভাবেই একটার পর একটা প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে অনুমান করছেন গবেষকরা৷

অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ছাড়াও সমুদ্রের দূষণ ও সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে এক নতুন প্রজাতির তারা মাছের আগমন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে৷ এই নতুন প্রজাতির তারা মাছ প্রবাল খায়, ফলে যখন তাপমাত্রা ও দূষণের কারণে প্রবাল প্রায় মৃত সেখানে এই নতুন প্রজাতির আগমনে অবস্থার অবনতি হচ্ছে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

এভাবে হয়তো সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব নয়৷ কিন্তু এই মৃত্যুর পরিণতি ভয়ংকর হতে পারে বলছেন গবেষকরা৷ এই প্রবাল প্রাচীরকে কেন্দ্র করে একটা গোটা বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে, ফলে এই প্রাচীর ধ্বংস ক্রমাগত ধ্বংস করে দেবে গোটা বাস্তুতন্ত্র৷ ফলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক প্রকৃতি৷ দৈনন্দিন দূষণ যেভাবে প্রকট  হয়ে উঠছে তাতে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় এই ধ্বংস এমনটাই মত বিজ্ঞানীদের৷

এখন প্রকৃতিবিদদের ভরসা অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রবাল প্রাচীর এখনও অবশিষ্ট রয়েছে৷ এর কারণ টাইফুন৷ ওই অঞ্চলে এই ঝড় বয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার সামুদ্রিক তাপমাত্রা বেশ খানিকটা কমে গিয়েছে ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এই অঞ্চল প্রভাবিত হয়নি৷ গবেষকরা চেষ্টা করছেন এই অঞ্চলের প্রাচীরকেই সংরক্ষিত করে এই ঐতিহ্যবাহী প্রবাল প্রাচীরের বিলুপ্ত হওয়া আটকাতে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য