kalerkantho


রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া, বিশ্বযুদ্ধ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০১:১০



রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া, বিশ্বযুদ্ধ!

ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন চরমে। তারই মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জল্পনা উসকে দিল রাশিয়া। বৃহস্পতিবার তিনটি ব্যালেস্টিক মিসাইলের পরীক্ষামূলক উত্‍‌ক্ষেপণ করালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার উপকূলে ব্যারেন্টস সি-র একটি ডুবোজাহাজ থেকে প্রথমে উত্‍‌ক্ষেপণ করা হয় বিশ্বের দ্রুততম ‘‌টোপোল মিসাইল’‌। এরপর রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমের একটি দ্বীপ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় দ্বিতীয় মিসাইলটি। তৃতীয় মিসাইলটি পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম। এটি উত্তর জাপানের ওখোত্‍‌স্ক সাগরে একটি ডুবোজাহাজ থেকে উত্‍‌ক্ষেপণ করা হয়। সিরিয়ায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। ঠিক সেই সময় রাশিয়ার শক্তি প্রদর্শনকে যুদ্ধের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে পশ্চিমের দেশগুলি।

তবে একে রুটিন পরীক্ষা বলেই দাবি করেছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু। পাশাপাশি পুরোদমে চলেছে সেনা মহড়াও। সরকারি আমলা, কর্মী ও রাজনীতিকদের তাঁদের সন্তানদের বিদেশের স্কুল থেকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কূটনীতিকদের আত্মীয়স্বজনকেও দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবই কোনো বড় যুদ্ধের আগের প্রস্তুতি। একবার যদি রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখসমরে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি বিশ্বযুদ্ধের দিকেই গড়াবে বলে মনে করছেন অনেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে বলে রাশিয়ার সরকারি আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়েছে। ব্রিটেনের একটি জনপ্রিয় সংবাদপত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মন্ত্রীরা একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যেকোনো ধরনের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তাঁরা ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছেন। সেখানে মস্কোর এক কোটি ২০ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হবে। গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চার দিন ধরে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাগরিক প্রতিরক্ষা মহড়া। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, দু’লাখের‌ বেশি উদ্ধারকারী দলের সদস্য, সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা।

এছাড়াও ওই মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকার, আঞ্চলিক প্রশাসক, স্থানীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মচারীরা। রাশিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত বিশাল পরিসরে মহড়ার আয়োজন করা হলো। গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলে বলা হয়, মস্কোকে আক্রমণ করার জন্য পরমাণু অস্ত্র প্রস্তুত করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাশ কার্টার পেন্টাগনকে বলেন, রাশিয়া নজিরবিহীনভাবে ভয়াবহ পরমাণু অস্ত্রশক্তির প্রয়োগ করতে পারে। এই বক্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসে রাশিয়া।   বিশ্বে পরমাণু অস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুদ রয়েছে রাশিয়ার, যার সংখ্যা সাত হাজার ৩০০। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অস্ত্রের সংখ্যা ছয় হাজার ৯৭০। ‌

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য