kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

ইরানি এক তরুণীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন অ্যামনেস্টির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৪



ইরানি এক তরুণীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন অ্যামনেস্টির

স্বামী হত্যার অভিযোগে ইরানে ২২ বছরের এক মেয়ের মৃত্যুদণ্ড যে-কোনো সময় কার্যকর করা হতে পারে৷ তবে অ্যামনেস্টির অভিযোগ, মামলাটি নিরপেক্ষ ছিল না৷ তাই মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি৷
জয়নাব সেকানভান্দ লোকরান নামের তরুণীটির বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর স্বামীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি বলছে, সেই সময় লোকরানের বয়স ১৮ বছরের কম ছিল৷ কিন্তু মামলার রায় ঘোষণার সময় সেটি বিবেচনায় নেয়া হয়নি৷
এছাড়া অ্যামনেস্টির দাবি, গ্রেপ্তার হওয়ার পর লোকরান প্রথমে স্বামী হত্যার অভিযোগ স্বীকার করলেও পরে যখন মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁকে (লোকরানকে) একজন সরকারি আইনজীবী দেয়া হয় তখন তিনি তা অস্বীকার করেন৷ সেই সময় তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামীর ভাই এই হত্যা করেছে, যিনি (স্বামীর ভাই) লোকরানকে কয়েকবার ধর্ষণ করেছেন৷ লোকরান বলেন, তাঁর স্বামীর ভাই তাঁকে প্রস্তাব দেন যে, তিনি (লোকরান) যদি স্বামী হত্যার অভিযোগ নিজের কাঁধে তুলে নেন তাহলে তাঁকে (লোকরান) ক্ষমা করে দেয়া হবে৷ উল্লেখ্য, ইসলামি আইন অনুযায়ী, নিহতের আত্মীয়স্বজন হত্যাকারীকে ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিতে পারেন৷
অ্যামনেস্টির অভিযোগ, মামলার রায় দেয়ার সময় আদালত লোকরানের প্রথম স্বীকারোক্তিটি (যেটি তিনি কোনো আইনজীবীর সামনে দেননি) আমলে নিয়েছে৷ পরবর্তীতে আইনজীবীর সামনে যে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেটি আদালত বিবেচনায় নেননি৷
চলতি বছরের শুরুতে লোকরানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু লোকরান গর্ভবতী থাকায় (২০১৫ সালে তিনি কারাগারের এক সঙ্গীকে বিয়ে করেছিলেন) সেটি তখন স্থগিত করে বাচ্চা প্রসবের পর কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ গত মাসের ৩০ তারিখে লোকরান সন্তান প্রসব করেন৷ কিন্তু তার দুদিন আগেই সেই সন্তান মারা যায় বলে জানান চিকিৎসক৷ কারাগারের এক বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় লোকরান যে শোক পেয়েছিলেন তাতেই বাচ্চার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷
এখন সন্তান প্রসব হয়ে যাওয়ায় যে-কোনো সময় লোকরানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অ্যামনেস্টি৷


মন্তব্য