kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাড়ে ৪ কোটি রুপির পূজা দেখতে আগরতলায় ভিড়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৮



সাড়ে ৪ কোটি রুপির পূজা দেখতে আগরতলায় ভিড়

ত্রিপুরার মতো রাজ্যে সাড়ে চার কোটি রুপির দুর্গাপূজা! শুধুমাত্র দেবীর প্রতিমাতেই ব্যবহার করা হয়েছে পাঁচ কেজির বেশি সোনা, যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি রুপি। এছাড়া আছে আমেরিকান ডায়মন্ড।

আগরতলার ছাত্রবন্ধু ক্লাবে এই বিগ বাজেটের পূজা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমদিকে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও শেষ সময়ে তা জানাজানি হয়েই যায়। ইন্টারনেটে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চতুর্থীতে অলিম্পিয়ান জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকারের হাতে পূজা মণ্ডপের উদ্বোধন হয়। এর পর থেকেই ভিড় সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে ক্লাব উদ্যোক্তাদের। পঞ্চমীর দিন রাত ৩টা পর্যন্ত বিশাল লাইন ধরে ঠাকুর দেখেছেন দর্শনার্থীরা। শুক্রবার দেবীর বোধনের দিন বিকেল থেকেই ভিড় শুরু হয়ে যায় এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রমেই বাড়তে থাকে । দক্ষিণ ভারতের ভেলোরের লক্ষ্মীনারায়ণ স্বর্ণমন্দিরের আদলে তৈরি করা হয়েছে এই পূজা প্যান্ডেল। এদিন ক্লাব সভাপতি তপন সাহা সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ করে এবারের পূজা করার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দিরের সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত। কিন্তু দক্ষিণ ভারতে যে আরও একটি স্বর্ণমন্দির রয়েছে, তুলনায় তার প্রচার অনেক কম। তাই ভেলোরের লক্ষ্মীনারায়ণ স্বর্ণমন্দিরের আদলে এবার পূজা মণ্ডপ করা হয়েছে। প্রতিমাও  সেই কষ্টি পাথরে সোনায় মোড়া। ভেলোরের আসল স্বর্ণমন্দিরে মোট ছয় টন সোনা ব্যবহার হয়েছে। এখানেও দেবীর প্রতিমায় পাঁচ কেজির বেশি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। দেবীর মুকুটে আসল আমেরিকান ডায়মন্ড ব্যবহার করা হয়েছে। প্যান্ডেলে ব্যবহার করা হয়েছে সোনালি গ্লাস ফাইবার, গোল্ডেন চাইনিজ সিট। সোনালি রঙের চোখ ধাঁধানো প্যান্ডেলের গায়ে নানা রকম কারুকার্য। নিরাপত্তাজনিত কারণে সি সি টিভি-তে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে সর্বক্ষণ। অতিরিক্ত পুলিশি ব্যবস্থাও রয়েছে। ক্লাব সভাপতি জানান, পঞ্চাশ লাখ টাকা সিকিউরিটি দিয়ে বহিঃরাজ্য থেকে স্বর্ণ আনা হয়েছে। প্রতিমা তৈরি করেছেন কলকাতার শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার। মোট ৭০ জন শিল্পী দীর্ঘ ৬ মাসের বেশি সময় ধরে প্যান্ডেল তৈরি করেছেন। পাশাপাশি এ বছরও দর্শনার্থীদের জন্য পূজা প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে খাবারের বিশেষ আয়োজন করেছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত বছর এই ক্লাব বৃদ্ধাশ্রমের ওপর থিম পূজা করে ‘‌বিশ্ব বাংলা স্মারক সম্মান’ পেয়েছিল। কলকাতার নজরুল মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে ক্লাব সম্পাদক অশোক ঘোষের হাতে সেরা’র সম্মান তুলে দিয়েছিলেন। এদিকে চতুর্থী, পঞ্চমীর পর  ষষ্ঠীর দিন আগরতলার পূজাগুলোতে মানুষের অপ্রত্যাশিত ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এদিন বিগ বাজেটের বাকি  ক্লাবই মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। ঊষাবাজারের ভারতরত্ন ক্লাবও এদিন মণ্ডপ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আন্দামানের সেলুলার জেলের আদলে এবার মণ্ডপ করেছে এই ক্লাব। সকালের এক পশলা বৃষ্টি চিন্তা বাড়িয়ে দিলেও এর পরই নির্মল আকাশের দেখা মেলে। তার উপর শনিবার অর্থাৎ সপ্তমী পূজা থেকে শহরের পূজাতে যান চলাচলে ট্রাফিকের বিধি-নিষেধ কার্যকর হয়ে যাবে। তাই বিকেলে আকাশ পরিস্কার হতেই ঠাকুর দেখতে বেড়িয়ে পড়েছেন মানুষ। শান্তিপাড়ার ঐকতান যুব সংস্থায় রোমের রাজপ্রাসাদ, নেতাজি প্লে সেন্টারে পুরীর জগ্ননাথ মন্দির, রামঠাকুর সঙ্ঘে  নিরস্ত্র দুর্গা দেখতে এদিন ভিড় উপচে পড়ে। আস্তাবলের পোলস্টার ক্লাব, লালবাহাদুর ব্যায়ামাগার, শান্তিকামী সঙ্ঘ, রামনগরের সংহতি ক্লাব, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ক্লাব, জয়নগর যুব সমাজ প্রভৃতি ক্লাবে রাতভর ঠাকুর দেখেছেন মানুষ। ‌

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য