kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাবার শেষ আলিঙ্গনে প্রাণ বাঁচল শিশুকন্যার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৫৪



বাবার শেষ আলিঙ্গনে প্রাণ বাঁচল শিশুকন্যার

শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ার আগে প্রবল আকুতি নিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলেন শিশুকন্যাকে। অন্তিম আদরে বেঁধে রেখেই মেয়ের প্রাণরক্ষা করলেন মত্যুপথযাত্রী বাবা।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর পরে এমনই দৃশ্য দেখা গেল।
চীনের পূর্ব প্রদেশ ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনঝৌ শহরে একই সঙ্গে ধ্বসে পড়ে চারটি ছয়তলা বিশিষ্ট বাড়ি। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন। ঘটনার ১২ ঘণ্টারও পরে কংক্রিট আর লোহার স্তূপের গভীরে চাপা পড়া এক শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, তাকে দু'হাতে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন প্রাণহীন বাবা। আসলে মৃত্যুমুখে সন্তানকে বাঁচাতেই তাকে দুই হাত দিয়ে আঘাত থেকে আড়াল করেছিলেন হতভাগ্য পিতা। আর তাতেই বেঁচে গিয়েছে বছর তিনেকের মেয়ে উ নিংঝি। তার শরীরে কিছু মামুলি আঘাত ছাড়া ক্ষতি হয়নি।
উদ্ধারকারী দলের এক সদস্যের কথায়, 'নিজের রক্ত-মাংস দিয়ে মেয়েকে ঘিরে আড়াল তৈরি করেছিলেন মৃত ব্যক্তি। সেই ফোকরে থেকে মেয়েটি স্বচ্ছন্দে নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে। মরতে বসেও নিজের সন্তানকে রক্ষা করে গিয়েছেন পিতা। '
জানা গিয়েছে, বাড়ি ধসে পড়ার সময় নিজেদের ফ্ল্যাটের লিভিংরুমে খেলা করছিল বাবা-মেয়ে। সেই সময়ই ভেঙে পড়ে ওই বহুতল। ঘরের অন্য প্রান্ত থেকে পাওয়া গিয়েছে মেয়েটির মায়ের দেহ। গত সোমবার, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও পরে ভাঙা কংক্রিটের স্তূপের তলা থেকে উদ্ধার হয় অর্ধনগ্ন শিশুটিকে। তাকে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিত্‍সার পরে সে সুস্থ আছে বলে জানা গিয়েছে।
চীনা সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে সত্তরের দশকে পর পর কিছু বহুতল তৈরি করে বসবাস শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চার দশক পেরিয়ে বাড়িগুলির অবস্থা শোচনীয় হয়ে দাঁড়ায়। গত কয়েক দিন ধরে অবিশ্রান্ত বৃষ্টির জেরে একসঙ্গে ৪টি ছয়তলা বিশিষ্ট বাড়ি ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের উচ্চতা দাঁড়ায় তিনতলা সমান। আরও বিপদের আশহ্কা দূর করতে অঞ্চলের একই বয়সী বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।


মন্তব্য