kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসবে চীন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৫৩



এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসবে চীন

পাকিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে ভারতসহ তামাম আন্তর্জাতিক দুনিয়া যতই সরব হোক, বেজিং ফের একবার এই ইস্যুকে নয়াদিল্লিকে আক্রমণ করে ইসলামবাদের পাশে। চীনের বিরোধিতার ফলেই জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান আজহার মাসুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে জাতিসংঘে ভারতের প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।

এবার বেজিং আরও এক কদম এগিয়ে দাবি তুলল, সন্ত্রাস মোকাবিলার নামে ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ তোলার চেষ্টা করলে তারা বিরোধিতা করবে। তাদের এই মন্তব্য যে নয়াদিল্লির উদ্দেশেই তাতে কূটনৈতিক মহলের কোনও সন্দেহ নেই। যদিও বেজিং একই সঙ্গে জানিয়েছে, পরমাণু সরবরাহকারী গোষ্ঠী (এনএসজি)-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তারা আলোচনায় রাজি।

১৫, ১৬ অক্টোবর গোয়ায় ব্রিকস শিখর সম্মেলন। এতে যোগ দেবেন ভারত, ব্রাজিল, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং রাশিয়ার শীর্ষ প্রতিনিধিগণ। ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাঁর এই ভারত সফরের আগেই একদিকে যেমন এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে সমর্থনের কথা, অন্যদিকে সন্ত্রাস ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো কূটনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।  

সংবাদ মাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে চীনা বিদেশমন্ত্রী লি বাওডোং বলেছেন, ৪৮ সদস্যের এনএসজি-তে নতুন সদস্য নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা দরকার। এ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।  

ব্রিকস শিখর সম্মেলনে এর কোনও রফাসূত্র মেলে কি না সে প্রশ্নের উত্তরে লি-এর মন্তব্য, প্রতিটি সদস্য দেশকে সহমতে আসতে হবে এটাই এনএসজি-র আইন। চীন একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।  

তবে ব্রিকস সম্মেলনে এ বিষয়ে চীন যে ভারতের পাশে আছে সে কথাই তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে গভীর ও সুষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী দিনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। তাঁর দাবি, শুধু চীনের সঙ্গে নয়, এনএসজি-র প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলতে হবে নয়াদিল্লিকে।

উল্লেখ্য, এনএসজি-তে সদস্য পদ না পাওয়ার জন্য নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বেজিংয়ের বিরোধিতার কথা বলেছে। উপ-বিদেশ মন্ত্রী লি সেই প্রসঙ্গ তুলে সাফাই দিয়েছেন, “চীন যে কোনও গঠনমূলক পদক্ষেপের পক্ষে রয়েছে। বেজিং একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। নয়াদিল্লি বিষয়টি ভুল বুঝেছে। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন এ ক্ষেত্রে জরুরি। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। ” নয়াদিল্লিকে এনএসজি-তে সমর্থনের কথা বললেও সন্ত্রাস ইস্যুতে চিরাচরিতভাবে ইসলামাবাদকে সমর্থন জানিয়েছে বেজিং। এ প্রসঙ্গে উপ-বিদেশমন্ত্রী লি-এর বক্তব্য, চীন যে কোনও প্রকার সন্ত্রাসবাদের বিরোধী। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে যদি কোনও দেশ রাজনীতি করে তাও বেজিং সমর্থন করবে না। সন্ত্রাস মোকাবিলার নামে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে দেওয়া হবে না। বেজিংয়ের দাবি, ব্রিকস শিখর সম্মেলনে সন্ত্রাস দমন একটি অন্যতম ইস্যু হতে চলেছে। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রই এ বিষয়ে একমত যে সন্ত্রাসবাদ দমন করতে হবে। কিন্তু তা অবশ্যই হবে গঠনমূলক পদক্ষেপে। বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে সন্ত্রাস মোকাবিলা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি এটাও ঠিক কোনও কোনও দেশ সন্ত্রাস দমনের নামে রাজনীতির চেষ্টা করছে। এটা বরদাস্ত করা হবে না। কূটনৈতিক মহলের মতে, কোনও কোনও দেশ বলতে বেজিং আসলে ভারতের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে।

নয়াদিল্লির মতো, ইসলামাবাদও এনএসজি-র সদস্য পদের ব্যাপারে আর্জি জানিয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক মাত্র দেশ চীন যারা মাসুদ আজহারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ভারতীয় প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। এ ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসাবে চিনের টেকনিক্যাল হোল্ডের সাফাই নিতে গিয়ে লি বলেছেন, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদেরই বিরোধী চীন। কিন্তু সন্ত্রাস মোকাবিলার নামে দু’মুখো নীতি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে দেওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র-সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য