kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সীমান্ত পরিদর্শনে পাক সেনাপ্রধান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৯



সীমান্ত পরিদর্শনে পাক সেনাপ্রধান

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাধলে পাক সেনা জবাব দিতে প্রস্তুত কি না, সম্ভবত সেটাই খতিয়ে দেখতে রবিবার সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল ঘুরে দেখলেন পাক সেনাপ্রধান রহিল শরিফ৷ পরিদর্শনের পর পাক সেনাবহরের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শরিফ, পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই খবর৷

জেনারেল শরিফ এদিন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হাজি পীর সেক্টর ঘুরে দেখেন৷ সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একান্তে কথাও বলেন বেশ খানিকক্ষণ৷ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রত্যেকদিন উত্তেজনা যে হারে বাড়ছে, সেই পরিস্থিতিতে শরিফের এই পরিদর্শনকে যুদ্ধের প্রস্তুতি বলেই দাবি করছে একাধিক পাক সংবাদমাধ্যম৷ তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, পাকিস্তানের যাবতীয় গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে৷

অন্যদিকে, ৮৪তম বায়ুসেনা দিবসের অনুষ্ঠানে বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অরূপ রাহা শনিবারই স্পষ্ট জানিয়েছেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে৷ কিন্তু সে বিষয়ে সেনা মুখ খুলবে না৷ সময় হলেই কাজের মাধ্যমে দক্ষতা প্রমাণ করবে৷ চিফ অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে বায়ুসেনা প্রধানের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷ পাশাপাশি, নাম না করে পাকিস্তানের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও৷ তিনি বলেন, ‘ভারত কোনো দেশ আক্রমণ করবে না৷ কিন্তু আক্রান্ত হলে গুলির হিসাবও রাখবে না৷’

২৯ সেপ্টেম্বর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর থেকেই প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক ভারত৷ তাই জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবের আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷ বাড়ানো হয়েছে বাহিনীর শক্তিও৷ ঠিক একইভাবে পাকিস্তানের তরফেও বাড়তি তৎপরতা গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে৷ সরকারের এক অত্যন্ত শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, ‘এই মুহূর্তে ওরা বেশি জওয়ান আনছে, নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে বাসিন্দাদের সরাচ্ছে৷ কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে শুধু জল্পনা করে লাভ নেই৷ তবে আমাদের ধারণা, ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হতে পারে বলে ওরা আশঙ্কিত৷’ এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি, এর আগে কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাডে হামলা করা হয়েছিল৷ এবার জম্মু এলাকার ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলার ভয়ে এই তৎপরতা সেখানেই বেশি৷ তবে তার থেকেও চিন্তার বিষয়, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর প্রচুর জেহাদি ক্যাডারদের উপস্থিতি৷ আগামী দিনে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তাতে বাড়ছে৷ দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের ভাবনা আন্তর্জাতিক মহল সমর্থন করবে না৷ তাই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পাল্টা হিসাবে পাক প্রশাসন আরও বেশি করে ফিদায়েঁ হামলার উপর ভরসা করবে বলে ধারণা ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার৷ এখনই ভারতে ঢোকার জন্য অন্তত একশ’ জঙ্গি তৈরি রয়েছে বলেও জানান ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা৷ পাশাপাশি, জঙ্গি শিবিরগুলি সেনা ছাউনির আরও কাছে সরিয়ে নিচ্ছে তারা৷

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য