kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একই গর্ভে জন্ম এই মা-ছেলের!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০৩



একই গর্ভে জন্ম এই মা-ছেলের!

একই গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মা ও ছেলে। চিকিৎসাশাস্ত্রের বিরল কৃতিত্বে একই পরিবারের তিন প্রজন্ম বাঁধা পড়লেন নাড়ির টানে।

এমিলি এরিকসন ও তাঁর ছেলের মধ্যে এক বিরল বন্ধন রয়েছে। তাঁরা দু’জন একই গর্ভজাত। আসলে মায়ের থেকে পাওয়া জরায়ুর সাহায্যেই সন্তান লাভ করেন এমিলি। যুগান্তকারী এক অস্ত্রোপচারের সাহায্যে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। আর এভাবেই পরিবারের তিন প্রজন্ম একই সূত্রে বাঁধা পড়েছে।

এমিলির ছেলে অ্যালবিনের বয়স এখন প্রায় ২ বছর। সংবাদসংস্থা এপি-কে নিজের জীবনকথা শুনিয়েছেন এমিলি। তাঁর আশা, এই কাহিনি সন্তানস্বপ্নে বিভোর বহু নারীকে অনুপ্রাণিত করবে।

এমিলির শরীরে তাঁর মায়ের জরায়ু সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন চিকিত্‍সক ম্যাটস ব্র্যানস্ট্রম। বিশ্বে তিনিই এমকাত্র চিকিত্‍সক যিনি প্রতিস্থাপিত জরায়ুর সাহায্যে এ পর্যন্ত মোট ৫টি সন্তান উত্‍পাদনের কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের অস্ত্রোপচার বর্তমানে বিরল হলেও একদিন তা স্বাভাবিক ঘটনা বলে গণ্য হবে। বিশ্বের একাধিক হাসপাতালে তিনি এই অস্ত্রোপচার করতে সফল হয়েছেন যার মধ্যে রয়েছে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও আমেরিকার মেয়ো ক্লিনিক। তাঁর দুই সহকারী চিকিত্‍সক বেলর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ৪টি জরায়ু প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার করেছেন। এর মধ্যে একটি সফল হলেও এখনো রোগীর শরীরে গর্ভধারণ ক্ষমতা তৈরি হয়নি।

১৫ বছর বয়সে পৌঁছেও মাসিক স্রাব শুরু না হওয়ায় এমিলি চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, জন্মসূ্ত্রে তাঁর শরীরে ভ্রূণ ধারণের ক্ষমতা নেই। এই কারণে তিনি কোনো দিন মা হতে পারবেন না। কুড়ির ঘরে বয়স পৌঁছলে বিভিন্ন পত্রিকা পড়ে তিনি জানতে পারেন, স্টেম সেল কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম অঙ্গ নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এভাবেই তিনি ব্র্যানস্ট্রমের কথা জানতে পারেন। স্টকহোমের বাড়িতে বসে সেই কথা মা-কে শোনান এমিলি।

ই-মেলের মাধ্যমে ব্র্যানস্ট্রমের সঙ্গে এমিলি যোগাযোগ করেন। তার পর গোথেনবার্গ শহরে তাঁর গবেষণাগারে বহু বার যাতায়াত করার পরে এবং অসংখ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জরায়ু প্রতিস্থাপন প্রকল্পে হাত দেন ব্র্যানস্ট্রম। অস্ত্রোপচারে সম্মতি দেন এমিলির স্বামী ড্যানিয়েল ক্রাইসংও।

অস্ত্রোপচারের পরে প্রথম প্রেগন্যান্সি টেস্ট নেগেটিভ ধরা পড়ে। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে ফের পরীক্ষা করলে সদর্থক রিপোর্ট পাওয়া যায়। তবে ডেলিভারি রুমে ছেলের কান্না শোনা পর্যন্ত নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারেননি এমিলি। আনন্দের আতিশয্যে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান তাঁর স্বামী। পরে অবশ্য তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ছেলে বড় হলে তাকে তার জন্ম বৃত্তান্ত ব্যাখ্যা করবেন বলে আপাতত দিন গুণছেন সুখী দম্পতি।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য