kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সর্বোচ্চ আয়ু ১১৫ টপকাবে না, দাবি গবেষণায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৩



সর্বোচ্চ আয়ু ১১৫ টপকাবে না, দাবি গবেষণায়

৪ আগস্ট, ১৯৯৭৷ ফ্রান্সের এক নার্সিংহোমে মারা যান জনৈকা জিয়েন ক্যালমেন্ট৷ খবর এটা নয়৷ ৯৭ ক্যালমেন্ট যখন মারা যান তখন তাঁর বয়স ছিল ১২২ বছর! ছাপার ভুল নয়! প্রায় সোয়া একশ’ বছর পৃথিবীতে টিকে ছিলেন ক্যালমেন্ট।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে ক্যালমেন্ট ৭ বছর বাড়তি বেঁচেছিলেন৷ সেটা কী রকম? জ্যান ভিজ ও তাঁর দুই সহযোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলছেন, ‘একজন মানুষের আয়ু বেশি হতেই পারে৷ কিন্তু কোনও মতেই তা ১১৫ টপকাবে না৷’ ক্যালমেন্টের ১১২-কে ব্যতিক্রম বলছেন ভিজ৷ সহজ করে বললে, স্কুলের পরীক্ষা যেমন ১০০ নম্বরের হয় এবং তাতে সর্বোচ্চ একজন ১০০-ই পেতে পারে তার বেশি নয়, তেমনি একজন সর্বোচ্চ ১১৫ বছরই বাঁচবেন৷

ভিজ ও তাঁর দুই সহযোগী জিয়াও ডং এবং ব্র্যান্ডন মিলহল্যান্ডের এই গবেষণা ‘নেচার’ পত্রিকায় ঘটা করে ছাপা হয়েছে৷ এরপরেই গবেষক মহল আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে৷ কেউ ভিজের গবেষণাকে হাস্যকর বলছেন, কারো মত সঠিক ব্যাখ্যাই দিয়েছেন ভিজ৷

‘ভিজকে আমি পূর্ণ সমর্থন করি৷ মানুষের আয়ুরও একটা সর্বোচ্চ সীমা তৈরি হচ্ছে৷ আমিও এ নিয়ে কাজ করছি৷ আমারও গবেষণায় একই তথ্য উঠে এসেছে,’ বলছেন ইলিনয়-এর প্রফেসার এস জে ওলশ্যাঙ্কি৷

তবে ভিজের ওপর খড়্গহস্ত জেমস ভপেল৷ ম্যাক্স-প্ল্যান্ক ওডেন্স সেন্টারের ডিরেক্টর ভপেল৷ বার্ধক্যের ওপর কাজ করছেন তিনি৷ ভপেলের স্পষ্ট কথা, ‘এমন আজগুবি কথা কেন যে লোকে বলে বেড়ায় বুঝি না৷ আরও অবাক লাগে যখন দেখি এইসব ছাইপাঁশ নামকরা পত্রিকায় ছেপে বেরোচ্ছে৷’

ভপেলের পরিস্কার কথা কিছু বিজ্ঞানী বার বার এক ভুল করে যাচ্ছেন৷ এমনিতে মানুষের গড় আয়ু দিনদিন বাড়ছে৷ যেমন ১৯০০ সালে মার্কিন মুলুকে যাঁরা জন্মেছিলেন তাঁদের গড় আয়ু ৫০-ও টপকায়নি৷ আর এখন যাঁরা আমেরিকায় জন্মাচ্ছেন তাঁদের পরমায়ুর গড় ৮০ ছুঁইছুঁই৷ এ বিষয়ে জাপান সবচেয়ে আগে৷ জাপানিদের গড় আয়ু ৮৩ বছর৷

তবে বয়সের নির্দিষ্ট সীমারেখা নিয়ে বিরোধ থাকলেও, অনেকেই বলছেন এতদিন বাঁচার প্রয়োজন কী?

‘যতদিন বাঁচুন, অথর্ব নয় সুস্থ হয়ে বাঁচুন’- বলছেন গবেষকরাই৷ কিন্ত্ত গড় আয়ু বাড়ার কারণ কী? গবেষণা বলছে ধূমপান বিরাট পরিমাণে কমেছে৷ সেইসঙ্গে মানুষ খাবার-দাবারের ব্যাপারে সচেতনতা বেড়েছে৷ আর জীবনদায়ী ওষুধ তো রয়েছেই৷

তবে গড় আয়ু বাড়লেও অন্য একটি লক্ষণ চোখে পড়েছে ভিজের৷ সেটা কী রকম?

গড় আয়ু যেমন বেড়েছে তেমন সর্বোচ্চ আয়ুর রেকর্ডও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে৷ যেমন ১৯৬৮ সালে সর্বোচ্চ আয়ুর মানুষটির বয়স ছিল ১০১৷ ১৯৯০-এ তা বেড়ে হয় ১১০ বছর৷ কিন্ত্ত সর্বোচ্চ আয়ু এবার নিম্নগামী৷ শুধু সর্বোচ্চ নয়, তার পরের দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ সবারই সর্বোচ্চর সীমায় ভাটা পড়েছে৷ পুরনো দস্তাবেজ ঘেঁটে ভিজের বক্তব্য এখন ১১৫-র বেশি বাঁচা সম্ভব নয়৷ যদি ইতিউতি কোথাও তেমন ঘটে, তা ব্যতিক্রম হিসেবেই ধরতে হবে৷ সর্বোচ্চ আয়ুতে বেড়ি পড়ানোর এই চেষ্টায় অবশ্য বেজায় চটেছেন বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ৷

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য