kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আলেপ্পোর অবরুদ্ধ বিদ্রোহীদের ক্ষমা প্রস্তাব দিলেন আসাদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৩৫



আলেপ্পোর অবরুদ্ধ বিদ্রোহীদের ক্ষমা প্রস্তাব দিলেন আসাদ

সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অংশে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বিদ্রোহীদের অস্ত্র ত্যাগ করে পরিবার নিয়ে নিরাপদে শহর ত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ।

গত দুই সপ্তাহ ধরে আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলা লড়াইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করার পর বৃহস্পতিবার তিনি ক্ষমার এ প্রস্তাব দেন।

পাশাপাশি আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা ও পুরো দেশের ওপর ফের পুনঃনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্রোহীরা বেশ কিছু অবরুদ্ধ এলাকায় সরকারের দেওয়া এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে দারাইয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে।
দামেস্কের নিকটবর্তী এই শহরটি কয়েক বছর ধরে সরকারি বাহিনীর অবরোধের মধ্যে ছিল। শেষে অগাস্টে বিদ্রোহী যোদ্ধারা অস্ত্র ত্যাগ করে শহরটি সরকারি বাহিনীর হাতে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে শহর ত্যাগ করে।

ডেনিশ একটি টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আসাদ বলেন, "বিদ্রোহীরা আলেপ্পো ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে। তাদের যেতে হবে, আর কোনো বিকল্প নেই। "

তিনি জানান, তিনি চান বিদ্রোহীরা প্রস্তাব গ্রহণ করে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অন্য কোনো এলাকায় চলে যাক, দারাইয়ার মতো। তবে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য আলেপ্পোর বিদ্রোহীদের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি আসাদ বা তার সেনাপতিরা।

অপরদিকে বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তাদের আলেপ্পো ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। ক্ষমার এই প্রস্তাবকে 'প্রবঞ্চনা' অভিহিত করে এর নিন্দাও জানিয়েছেন তারা।

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ প্রধান শহুরে এলাকা আলেপ্পোর পূর্বাংশটি। গত কয়েক মাস ধরে সরকারি বাহিনী পুরো এলাকাটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গত মাসে সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির সময় অবরুদ্ধ এলাকাটি দিকে এগিয়ে যাওয়া জাতিসংঘের একটি ত্রাণবহরে হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
আলেপ্পোর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম ফাস্তাকিম গোষ্ঠীর তুরস্কে অবস্থানরত নেতা জাকারিয়া মালাহিফজি বলেছেন, “বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে আলেপ্পো ছাড়া অসম্ভব, কারণ এটি (ক্ষমার প্রস্তাব) সরকারের একটা চালও হতে পারে। ”
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, "আলেপ্পো অন্য এলাকাগুলোর মতো নয়, তাদের পক্ষে আত্মসমর্পণ করা সম্ভব না। "

আলেপ্পো বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অবরুদ্ধ পূর্বাংশ ছেড়ে বেসামরিক লোকজনকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে বুধবার ওই অংশে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা হ্রাস করার ঘোষণা দিয়েছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী।

পাশাপাশি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, "অস্ত্র ত্যাগ করে চলে যাওয়ার এই সুযোগ যারা গ্রহণ করবে তাদের অনিবার্য পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। "

পাশাপাশি অবরুদ্ধ অংশে আটকা পড়া বেসামরিক নাগরিকেদের কারো কারো মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের মাঝ থেকে তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পূর্ব আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এই অংশটিতে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ আটকা পড়ে আছে এবং তারা প্রচণ্ড খাদ্য ও অষুধের সঙ্কটে ভুগছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মন্তব্য