kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পূজা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে কড়া নিরাপত্তা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:১৯



পূজা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে কড়া নিরাপত্তা

এবার পূজা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশের এ উৎসবের ভিড়ের ‘আপডেট’ পুলিশ দিচ্ছে সেনাবাহিনী, জঙ্গি হামলা দমনে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এনএসজি কমান্ডো বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে।

যাতে গড়বড় কিছু দেখলে এক সঙ্গে ঝাঁপাতে পারে সবাই। উৎসবের ভিড়ে নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে এমন সংহত প্রচেষ্টার সাক্ষী আগে কখনও হয়নি এই রাজ্য।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের সচিবালয় ‘নবান্ন’-তে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল সুরজিৎ করপুরকায়স্থ দাবি করেছেন, ‘উৎসবের সময়ে রাজ্যে জঙ্গি হামলা হতে পারে, এমন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই। তবু নিরাপত্তা আটোসাঁটো করা হয়েছে। ’ অর্থাৎ গোয়েন্দা-তথ্য বা ইনটেলিজেন্স ইনপুট থাকুক বা না থাকুক, পুলিশের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে এবং সেই জন্যই যতটা সম্ভব নিরাপত্তাকে নিশ্ছিদ্র করার ব্যবস্থা।
সুরজিৎবাবু বলেন, ‘অযথা আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না। গুজবে কান দেবেন না। সমস্যা থাকলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করুন। ’ নবান্নে যখন ডিজি এ কথা বলছেন, তখন তার পাশে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার।     
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় বারোয়ারি পুজোর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। জেলাগুলির নথিবদ্ধ পুজোর সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। পুজোর ভিড় অবশ্য কলকাতাতেই সব চেয়ে বেশি হয়। জেলাগুলি ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সমাগম হয় মহানগরে।
তবে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের একটি সূত্রের খবর, এ বার পুলিশের বাড়তি সতর্কতার কারণ তিনটি। এক, নব্য জেএমবি-র নেতৃস্থানীয় কারও কারও সহায়তায় এই রাজ্যে ইতোমধ্যেই জাল ছড়িয়েছে আইএস (ইসলামিক স্টেট)। যাদের হামলা করতে বেশি পরিকল্পনার দরকার নেই। লোন উলফ অ্যাটাক বা একজন তার কাছের এক শত্রুকে নিধন করলেও তাদের সার্থকতা। দুই, সপ্তাহ দুয়েক আগেই কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ জেএমবি জঙ্গি এবং বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে জামাই ফারুক। তাই, জেএমবি বদলা নিতে পারে, এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তিন, বাংলাদেশের শোলাকিয়ায় ঈদের দিনও সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আগে ভাবা হত, উৎসবের সময়ে জঙ্গি হামলা হবে না, কিন্তু এখন সেই ধারণা ভেঙে গিয়েছে। আইএসের দাপট শুরু হওয়ার পর আরও বেশি করে।


মন্তব্য