kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হারিকেনের পর এবার হাইতিতে মহামারির আশঙ্কা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:১৪



হারিকেনের পর এবার হাইতিতে মহামারির আশঙ্কা

File Photo

২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির কাটিয়ে না উঠতেই আবারও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে হাইতি। ম্যাথিউর তাণ্ডবের পর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করতে গিয়ে হাইতিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত মুরাদ ওয়াহাবা দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০১০ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন।

২০১০ সালে হাইতির ভূমিকম্পের পর বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেশটিতে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশুদ্ধ পানির অভাবে এবার আবারও সেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাইতির উপকূলে গত মঙ্গলবার আঘাত হানে শক্তিশালী হারিকেন ম্যাথিউ। জোরেসোরে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হওয়ার প্রাণহানির হিসেবের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। হাইতির সরকার এরইম ধ্যে ২৮৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সেই সঙ্গে আরও প্রাণহানিরও আশঙ্কা জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে।

২০১০ সালে ভূমিকম্পের পর হাইতির গৃহহীন হয়ে পড়াদের মধ্যে ৫৫ হাজার মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাস করছেন। তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হওয়ার আগেই আরেকটি বিপর্যয়ের সন্মুখীন হলো হাইতি। মঙ্গলবার হারিকেনটি যেসব এলাকায় আঘাত করেছে সেখানে ২৩ লাখ মানুষের বসবাস। মঙ্গলবার আছড়ে পড়া এ ঝড়ের কারণে দেশটির প্রধান শহর জেরেমির প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ধসে পড়েছে এবং সুদ প্রদেশে ৩০ হাজার ভবন ধ্বংস হয়েছে। কিছু ঘর-বাড়ি এমনভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে যে সংস্কারের উপায় নেই।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য আর বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। দ্য প্যান আমেরিকান হেরথ অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে সংস্থাটি হাইতিতে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে। বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানি দূষিত হয়ে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে হাইতি, ডমিনিকান রিপাবলিকসহ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালিয়ে মানবিক বিপর্যয় তৈরি এবং বৃহস্পতিবার বাহামা দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় আছড়ে পড়ার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগুচ্ছে হারিকেন ম্যাথিউ। হারিকেনটি এখন তীব্রতার দিক দিয়ে বিপজ্জনক ৪ মাত্রার ঝড় হিসেবে (পাঁচটি পর্যায়ে হারিকেনের তীব্রতা নির্ণয় করা হয়) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার হারিকেনটি ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি এত বড় ধরনের ঝড় আঘাত হানেনি বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। আর ফ্লোরিডায় ১১৮ বছরের মধ্যে এত শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানেনি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ। ‌

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে এরই মধ্যে ফ্লোরিডার দুটি কাউন্টিতে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে হারিকেন সতর্কতায় রাখা হয়েছে।


মন্তব্য