kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশে বেড়াতে যাওয়ার ঢল কলকাতার মানুষের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৩৭



বাংলাদেশে বেড়াতে যাওয়ার ঢল কলকাতার মানুষের

দূর্গাপুজোর ছুটিতে বাংলাদেশে বেড়াতে যাচ্ছেন কলকাতার বহু মানুষ। কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস জানাচ্ছে গত কয়েকদিনে পর্যটক ভিসা দেওয়ার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

কলকাতার যেসব পর্যটন সংস্থা বাংলাদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করে থাকে, তাঁরাও বলছেন পুজোয় সেদেশে যাওয়ার আগ্রহ আগের থেকে বহুগুণ বেড়ে গেছে। কলকাতায় উপদূতাবাসের হেড অফ চ্যান্সারি মিঞাঁ মুহম্মদ মইনুল কবীল বলছিলেন, "বছরের অন্য সময়ে যেখানে প্রতিদিন গড়ে চারশো ভিসা দেওয়া হয় সেখানে এখন গড়ে আট থেকে নয়শো ভিসা দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন। গত দুসপ্তাহে আমরা ১৫ হাজারেরও বেশী ভিসা দিয়েছি। পুজোর ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য দুটি কাউন্টারের জায়গায় চারটি কাউন্টার খুলতে হয়েছে আমাদের। এই যে বাড়তি ভিসার আবেদন এসেছে, এগুলো সবই পর্যটন ভিসা।

উপরাষ্ট্রদূতাবাস বলছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছিয়েছিল বুধবার, যাতে রাত আটটা পর্যন্তও ভিসা নেওয়ার জন্য মানুষের ভিড় লেগে ছিল। দূতাবাসের আরেক আধিকারিক জানাচ্ছিলেন গত বছর কয়েক ধরেই দূর্গাপুজোয় বাংলাদেশ যাওয়ার উৎসাহ বেড়েছে। এত ভিড় হচ্ছে যে আমাদের নিজেদেরই অফিসে ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে মাঝে মাঝে! তবে কলকাতার মানুষদের মধ্যে আমাদের দেশে যাওয়ার যে উৎসাহ দেখছি, সেটা সত্যিই খুব ভাল লাগছে। ভিসা হাতে পেয়ে বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে সপরিবারে রওনা হচ্ছেন তথ্যচিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদার। বিবিসি বাংলাকে দস্তিদার বলছিলেন, বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে গেছি, কিন্তু সেদেশের দূর্গাপুজোটা কখনও দেখা হয় নি। সেজন্যই এই সময়ে যাওয়া। রাজশাহীর কাছে তাহেরপুরে রাজা কংসনারায়ন সর্বজনীন পুজোর প্রথম প্রচলন করেছিলেন। সেটা দেখার আমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে, তাই মালদা হয়ে রাজশাহী-ই যাব আমরা।

কলকাতার যে সব পর্যটন সংস্থা বাংলাদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করে, সেরকমই একটি সংস্থার কর্ণধার সুব্রত দেব জানাচ্ছিলেন, আমাদের কাছে একশোটা ফোন এলে অন্তত ৫% মানুষ বাংলাদেশ ভ্রমণের ব্যাপারে জানতে চাইছেন। আরেক পর্যটন সংস্থার মালিক অলোক কুন্ডুর কথায়, আগে তো বাংলাদেশের ব্যাপারে কেউই খোঁজ করত না। কিন্তু গত বছর কয়েক ধরে অবস্থাটা পাল্টে গেছে। এবছরও আমরা ২৫ জনের একটা দলকে বাংলাদেশ পাঠাচ্ছি পুজোর সময়ে। তবে দুই পর্যটন সংস্থার মালিকই বলছেন, যাঁরা বাংলাদেশ ঘুরতে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রায় সকলেরই আদি বাড়ি ছিল পূর্ব বঙ্গে। নিজেদের ফেলে আসা দেশ দেখতেই তাঁরা সেখানে যেতে আগ্রহী।

 


মন্তব্য