kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এইচআইভি’র প্রথম নিরাময় কি ব্রিটেনেই?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০২:১৩



এইচআইভি’র প্রথম নিরাময় কি ব্রিটেনেই?

এইচআইভি সংক্রমণ বা এইডস শুনলেই একটা আতঙ্ক কাজ করে সবার৷ সমাজচ্যুত করে দেয়া হয় রোগীকেও৷ কিন্তু দিন বদলাচ্ছে৷

সম্পূর্ণ নিরাময় হবে এই রোগ সেই আশায় বুক বাঁধছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা৷ তাঁদের আবিষ্কার এবার সম্পূর্ণ নিরাময় করবে মরণ এইডস রোগের৷ নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, ইম্পিরিয়াল কলেজ অফ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডন, কিংস কলেজ অফ লন্ডন-সহ একাধিক প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা৷ সেটিতে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব এই রোগের দাবি করছেন তাঁরা৷ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেল্থ রিসার্চ অফিস ফর ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ইনফ্রাস্ট্রাকচারের অধিকর্তা মার্ক স্যামুয়েল বলেন, এই রোগ নিরাময় কঠিন, কারণ দেহের ইমিউন সিস্টেমকে আক্রমণ করে ভাইরাসটি৷ টি-কোষের ডিএনএ-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে উল্টে ভাইরাসটির বংশবৃদ্ধি হতে থাকে তাই অ্যাণ্টি-রেট্রোভাইরাল পদ্ধতিটি এই সক্রিয় টি-কোষকে আক্রমণ করে৷ কিন্তু নিষ্ক্রিয় কোষকে নয়৷ তাই ভাইরাস জন্মাতেই থাকে৷

নতুন পদ্ধতিতে একটি ভ্যাকসিনের মাধ্যমে এইচআইভি আক্রান্ত কোষকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে বের করে দেবে৷ এরপর ভোরিনোস্ট্যাট নামের একটি ওষুধ নিষ্ক্রিয় টি-কোষকে উত্তেজিত করবে, যা দেহের শারীরবৃত্তীয় পদ্ধতিতে ধরা পড়বে৷ এক ব্রিটিশ ব্যক্তি এই সংক্রমণে ভুগছেন৷ প্রথম তাঁর উপরেই এই নতুন পদ্ধতি  প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ এটি কার্যকর হলে তিনিই হবেন বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি, যাঁর এইডস সম্পূর্ণভাবে সেরে যাবে৷ ইম্পিরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানী সারা ফিডলার বলেন, এই পদ্ধতিটিতে এইচআইভি ভাইরাসটির সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেওয়ায়ই তাঁদের লক্ষ্য৷ পাঁচ বছর গভীরে গিয়ে এই নিয়ে কাজ করবেন তাঁরা৷ প্রথমে ৫০ জন রোগীর উপর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ যাঁদের মধ্যে এই ব্রিটিশ ব্যক্তিই প্রথম৷

এটি প্রথম নিরাময়কারী পদ্ধতি যেখানে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসা দেহের প্রতিটি কোষে এইচআইভি ভাইরাসকে চিহ্নিত করতে পারবে৷ ধ্বংস করতেও সক্ষম হবে৷ দেহের মধ্যে ‘ঘুমন্ত’ অবস্থায়ে অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় অবস্থায়ে কোনও এইচআইভি ভাইরাস থাকলেও তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এই প্রক্রিয়ায়৷ প্রথমে দেখা গিয়েছিল এই ভাইরাসকে মানুষের রক্তে চিহ্নিত করা যায় না৷ তাই ওই ব্যক্তিকে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে সত্যিই এই পদ্ধতিতে তিনি সম্পূর্ণ সেরে উঠবেন কি না, তা দেখার জন্য৷

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য