kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিপন্নের তালিকায় ৭ প্রজাতির মৌমাছি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০১:০০



বিপন্নের তালিকায় ৭ প্রজাতির মৌমাছি

থেমে যাবে কি মৌমাছির গুনগুন? প্রাকৃতিক নানা পরিবর্তনে বিপন্ন মৌমাছিদের কয়েকটি প্রজাতি৷ আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপের সাত ধরনের মৌমাছিকে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ একটি মার্কিন রিপোর্ট উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে৷ আমেরিকার মৌমাছি প্রতিপালকরা দেখেছেন, বছরখানেক সময়ের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মৌচাক নষ্ট হয়ে গেছে৷ উধাও হয়ে গেছে তার বাসিন্দারাও৷

হাওয়াইয়ের বিপন্ন মৌমাছির মুখের সামনের অংশ হলদে রঙের৷ দেখলে মনে হবে, তারা হলুদ মুখোশ পরে রয়েছে৷ এমন সাতটি প্রজাতির মৌমাছি মূলত দেখা যায় হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে৷ দু’দশক ধরেই দ্বীপে মৌমাছিদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে৷ কিন্ত্ত, এই সাতটি প্রজাতির ক্ষেত্রে বিপদ ঘণ্টা বেজে গেছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্যপ্রাণ কর্তৃপক্ষ এই মৌমাছিদের বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়৷ পরিবেশ রক্ষার কাজে যুক্ত এক্সারসেজ সোসাইটি নামে একটি সংস্থা হাওয়াইয়ের মৌমাছির উপর দীর্ঘদিন গবেষণা চালাচ্ছে৷ এই সংস্থার ডিরেক্টর সারিনা জেপসন জানান, মৌমাছি পরাগসংযোগের কাজ করে৷ পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখে৷ পৃথিবীর অন্যত্র এই সাত প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যেতে পারে৷ কিন্ত্ত, এরা মূলত হাওয়াইয়ের জীব৷ শুধু হাওয়াই দ্বীপে এমন অনেক উদ্ভিদ দেখা যায়, যার পরাগসংযোগ হয় এই হলুদ মৌমাছির মাধ্যমে৷

আধুনিক সভ্যতার আগ্রাসন নয়, প্রাকৃতিক কারণেই হারিয়ে যাচ্ছে হলদে-রঙা মৌমাছির দল৷ জেপসন জানান, জংলি শূকর ও পিঁপড়ে এ জন্য দায়ী৷ মৌমাছিরা নিজেদের বাসস্থান হারিয়ে ফেলছে৷ মৌচাকের ক্ষতি হচ্ছে পরগাছা, দাবানলের জন্যও৷ উপকূল এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজকর্মও মৌমাছির সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য দায়ী৷ হনলুলুর বন্যপ্রাণ কর্তৃপক্ষের টিম ম্যানেজার গ্রেগরি কুব বলেন, ‘গোটা দ্বীপপুঞ্জে প্রাণি ও উদ্ভিদের স্বাস্থ্যরক্ষায় এই মৌমাছির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ৷’ হাওয়াইয়ের পতঙ্গবিদ কার্ল ম্যাগনাকার মতে, ‘মৌমাছি গোটা বনকে রক্ষা করে৷ অরণ্যের কাঠামো ধরে রাখে৷ এরা যে গাছপালা বা ঝোপঝাড়ে বাসা বাঁধে, তার দিকে আমাদের নজর কম৷ সেগুলোকে রক্ষা করার ব্যাপারেও ততটা যত্ন নেই৷’ তাই বাসা হারিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে হলদে মুখোশ পরা মৌমাছি৷

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি মার্কিন রিপোর্টে মৌমাছির বাসস্থান ধ্বংস হওয়ার যে তথ্য বেরিয়েছে, তা উদ্বেগজনক৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫-র মার্চ থেকে এ বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৪৪ শতাংশের বেশি মৌচাক নষ্ট হয়ে গেছে৷ তার বাসিন্দাদের সংখ্যাও ক্রমশ কমে আসছে৷ এক ধরনের কীট মৌচাক নষ্ট করে ফেলছে৷ এই কীটকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা যায়নি৷ অনেক ক্ষেত্রে কীটনাশকের প্রয়োগেও মৌচাক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ নর্থ ক্যারোলিনায় জিকা ভাইরাস বহনকারী মশা মারার জন্য যে ওষুধ ছড়ানো হয়, তাতেও ক্ষতি হয়েছে মৌচাকের৷

বি স্মার্ট টেকনোলজি নামে একটি সংস্থা নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছে৷ এই প্রযুক্তির সাহায্যে মৌমাছি প্রতিপালকরা মৌচাকের উপর নজর রাখতে পারবেন৷ সংস্থার প্রধান ইভান কানেভ জানান, ‘মধু উত্‍পাদন নয়, আমেরিকায় এই ব্যবসার প্রধান লক্ষ্য পরাগসংযোগের জন্য মৌমাছির যোগান দেয়া৷ গাড়ি করে দূর-দূরান্তের খেতে মৌচাক পাঠানো হয়৷ বি স্মার্টের মাধ্যমে মৌচাক সরবরাহকারী দূর থেকে মৌচাকের হাল-হকিকত জানতে পারবেন৷ এই প্রযুক্তিতে মৌচাকের মধ্যে সেন্সর বক্স বসানো হয়৷ তার মাধ্যমেই তথ্য পৌঁছে যাবে মৌমাছি প্রতিপালকের কাছে৷’ এর ফলে মৌচাকের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব৷

মৌচাক ধ্বংসকারী কীট ভারোরা-কে নিয়ে বেশি চিন্তা পরিবেশবিদদের৷ চেক বিজ্ঞানী রোমান লিনহার্ট তৈরি করেছেন বিশেষ এক ধরনের মৌচাক, যার ভেতরের অংশ সৌরশক্তির সাহায্যে গরম করা যায়৷ আড়াই ঘণ্টায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এই তাপমাত্রায় ভারোরা কীট মরে যায়, কিন্ত্ত মৌমাছির ক্ষতি হয় না৷ ১০ দিন অন্তর এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি হলে সুফল মেলে৷ ২৫ বছর ধরে মৌমাছি প্রতিপালন করছেন লিনহার্ট৷ তাঁর দাবি, ‘পাহাড়ি হোক বা নিচু এলাকা, সব জায়গাতেই এই বিশেষ ধরনের মৌচাক ব্যবহার করা যেতে পারে৷’

বিশ্বজুড়ে মৌমাছিকে বাঁচাতে এমন গবেষণা চললেও হাওয়াইয়ের হলুদ-রঙা সাতটি প্রজাতি কেন সঙ্কটাপন্ন? নতুন কোন পদ্ধতিতে ওই প্রজাতিদের কি বাঁচানো যায়, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে মার্কিন মুলুকে।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য