kalerkantho


মানুষের জন্যই কি বিলুপ্ত হবে জীবজগৎ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:৪৩



মানুষের জন্যই কি বিলুপ্ত হবে জীবজগৎ

বিলুপ্ত হওয়ার পথে এগোচ্ছে জীবজগৎ৷ যাকে বলা হচ্ছে সিক্সথ এক্সটিংকশন৷ কিন্ত্ত উল্কা বা মহাজাগতিক কোনও বস্ত্ত নয়, এমনকি নয় উষ্ণায়ন বা জলবায়ুর পবির্তনও, ক্রমশ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠা এই ধ্বংসের মূল কারণ আমরা৷ অর্থাৎ‍, মানব প্রজাতি৷ ‘সায়েন্স’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তেমনই দাবি করা হয়েছে৷

কেন মানুষকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা?

তাঁরা বলছেন, জীবজগৎ যেভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ধাঁচ দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা৷ যা এর আগে পৃথিবীর জৈব বিবর্তনের ইতিহাসে কোনোদিন দেখা যায়নি৷ সেই বৈশিষ্ট্যটা হল, বেছে বেছে বড় আকারের প্রাণীদের সংখ্যা লোপ পাচ্ছে অত্যন্ত দ্রুত হারে৷

উল্লেখিত প্রবন্ধটি লেখা হয়েছে সামুদ্রিক প্রাণিজগতের উপর একটি সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে৷ সংখ্যাতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত, যে প্রাণীর আকার যত বড়, তার বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও তত বেশি বলে মনে করা যেতে পারে৷ যেমন দেখা যাচ্ছে, সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে হাঙর, তিমি, জায়ান্ট ক্ল্যাম, সামুদ্রিক কাছিম এবং টুনা-এই প্রাণীগুলিই সবচেয়ে বিপন্ন৷ মহাসমুদ্রের বাসিন্দা অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় তাদের সংখ্যা কমছে অনেক দ্রুত হারে৷ কার্যত বিলুপ্তির দিকে এগোচ্ছে এই প্রাণীগুলি৷ এর আগে যত বার ব্যাপক ভাবে প্রাণিজগতের বিলুপ্তি ঘটেছে, কোথাও দেহের আকারের সঙ্গে বিপন্ন হয়ে পড়ার এই আনুপাতিক সম্পর্ক দেখা যায়নি৷ বরং গত ৬৬ লক্ষ বছরের ইতিহাস বলছে, আকারে ছোট প্রাণীদেরই প্রাকৃতিক কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক সময় বেশি হয়৷

তাহলে হঠাৎ এই পরিবর্তন কেন?

এর জন্য প্রকৃতির কোনো খামখেয়ালকে দায়ী করতে নারাজ বিজ্ঞানীরা৷ এমনকি মনুষ্যসৃষ্ট পরিবেশ দূষণও নয়, বরং তাঁদের অভিমত, এর পেছনে রয়েছে মানুষের প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা৷ অর্থাৎ‍, সোজা কথায় মানুষের বড় বড় প্রাণী শিকার করার প্রবণতা৷ এই জায়গায় এসে স্থলে বসবাসকারী প্রাণীদের সঙ্গে সামুদ্রিক জীবজগতের তুলনা টানছেন বিশেষজ্ঞরা৷ বলছেন, আজ থেকে ৫০ হাজার বছর আগে থেকে শুরু করে মোটামুটি ১০ হাজার বছর আগে পর্যন্ত স্থলচর প্রাণীদের ইতিহাস লক্ষ করলে যে প্রবণতা ধরা পড়ে, এখন সামুদ্রিক প্রাণীদের ক্ষেত্রেও সেই বৈশিষ্ট্যই প্রকট হয়ে উঠেছে৷ স্থলেও ম্যামথের মতো অতিকায় প্রাণীগুলিকে শিকার বা হত্যা করার একপেশে প্রবণতা দেখা গেছে মানুষের মধ্যে৷ সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে৷ শুধু সামুদ্রিক প্রাণী শিকার স্থলচর প্রাণী শিকারের তুলনায় অনেক পরে শুরু হয়েছে বলে তার ফলাফলটাও দেরিতে টের পাওয়া যাচ্ছে৷

কিন্ত্ত এই ভাবে বড় আকারের প্রাণীগুলি দ্রুত লোপ পেলে তার ফল হতে পারে ভয়ঙ্কর৷ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, যে সব প্রাণী ওই বড় প্রাণীগুলির খাদ্য, তারা এর ফলে সংখ্যায় বিপুল ভাবে বেড়ে যাবে৷ যার পরিণামে গোটা বাস্ত্ততন্ত্রের ভারসাম্যই টলে যেতে পারে৷ তবে তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ আবার আশার কথাও শুনিয়েছেন৷ তাঁদের মতে, বিপদের আঁচ সবেমাত্র পাওয়া যাচ্ছে৷ মহাসমুদ্রের প্রাণিজগতে এখনও ক্ষতির পরিমাণটা হাতের বাইরে চলে যায়নি৷ এখন থেকে সতর্ক হলে, অতএব, শেষরক্ষা হওয়া অসম্ভব নয়।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য