kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুই ‌বছরের মধ্যেই ভারত, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড সড়ক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫১



দুই ‌বছরের মধ্যেই ভারত, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড সড়ক

‘‌ভারতকে যেমন তার উত্তর–পূর্বাঞ্চলের দিকে তাকাতে হবে, উত্তর–পূর্বাঞ্চলকেও তেমনই উৎসাহ দিতে হবে পশ্চিমে, অর্থাৎ নিজেদের দেশেকেই। দুটির একটা কাজে ব্যর্থ হলেই, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

’‌ বললেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাধ্যক্ষ শঙ্কর রায় চৌধুরী। তাঁর অনুচ্চারিত ইঙ্গিত ছিল উত্তর–পূর্বের রাজ্যগুলিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে। বললেন, ‘‌অনেক দেরি হয়েছে, কিন্তু আর একটুও দেরি করা যাবে না। ’‌ দেশের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে রিসার্চ সেন্টার ফর ইস্টার্ন অ্যান্ড নর্থ ইস্টার্ন স্টাডিজ—কলকাতা, সংক্ষেপে ‘সেনার্স্ক’ নামে যে চিন্তাসত্র স্থাপিত হয়েছে, তারই নানা উদ্যোগ ব্যাখ্যা করছিলেন তিনি। জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরী, মেজর জেনারেল অরুণ রায়ের মতো অবসরপ্রাপ্ত সেনাধ্যক্ষদের সঙ্গে অনিরুদ্ধ লাহিড়ী, সীতারাম শর্মা, ভি এস ভাণ্ডারীর মতো বাণিজ্য–কর্মকর্তারাও সামিল হয়েছেন সেই চিন্তাসত্রে। অতিথি–বক্তা হিসেবে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সি আই আই)–এর উত্তর–পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান সন্দীপন চক্রবর্তী শোনালেন আশার কথা। জানালেন, ভারত থেকে মায়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের বহু বিলম্বিত প্রকল্পে অবশেষে গতি ফিরেছে। বললেন, ‘‌আর দু–বছরের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহার, বাংলা, আসাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর হয়ে মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত অতি–‌গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা। এই সড়ক চালু হলেই উত্তর–পূর্ব ভারতের যোগাযোগ সমস্যার বহুলাংশে সুরাহা হবে, সেখানকার আর্থিক এবং বাণিজ্যিক পরিস্থিতিরও আমূল পরিবর্তন ঘটবে। ’‌

কিন্তু, উত্তর–পূর্বের শিল্প বা বাণিজ্যকে যে ব্যাপক দুর্নীতির মোকাবিলা করতে হয়, সে–অবস্থা কি পাল্টাবে? সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন শুনে বাণিজ্য কর্তারা প্রায় সমস্বরে বললেন, দুর্নীতি গোটা দেশ জুড়েই ছড়ানো। এ কথা ভাবার কোনও কারণ নেই যে,‌ উত্তর–পূর্বের দুর্নীতি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে বেশি। উত্তর–পূর্ব বিশেষজ্ঞ সুবীর ভৌমিক বললেন, ‘‌যে দুর্নীতি মেনে নিয়ে দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে ব্যবসা করতে হয়, উত্তর–পূর্বের দুর্নীতি তার চেয়ে অনেক কম। ’‌ দিল্লি এবং প্রধানত দেশের উত্তরাংশে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের ইদানীং বারবার যে অবাঞ্ছিত পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে, সে–বিষয়েও উদ্বেগ উঠে এল আলোচনায়। অর্জুন রায় স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‌উত্তর–পূর্বের সংস্কৃতিকে ‘অশালীন’ মনে করার প্রবণতারও পরিবর্তন দরকার।

অনিরুদ্ধ লাহিড়ী জানালেন, ‘সেনার্স্ক’ এই মুহূর্তে মনোযোগী উত্তর–পূর্বের মিজোরামকে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার প্রবেশ পথে রূপান্তরের কর্মসূচি প্রণয়নে। আগামী ৫–৬ অক্টোবর আইজলে সেনার্স্ক এবং মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিষয়টি সবিস্তারে আলোচনা হতে চলেছে। উদ্যোগের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে মিজোরাম সরকার ও সি আই আই।

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য