kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শ্লীলতাহানি, মারধরের কথা জেরায় স্বীকার করল কাদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৩



শ্লীলতাহানি, মারধরের কথা জেরায় স্বীকার করল কাদের

রাতভর জেরায় পার্কস্ট্রিট কাণ্ডের প্রয়াত অভিযোগকারিণী সুজেটকে  শ্লীলতাহানি ও মারধরের কথা স্বীকার করে নিল কাদের খান৷ পুলিশি জেরায় প্রথমে সরাসরি ধর্ষণের কথা না জানালেও কাদের বলেছে, ‘ঘটনার দিন গাড়িতে ছিলাম৷ মদ্যপ অবস্থায় ছিলাম৷ সুজেটের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়৷ শারীরিক নির্যাতন করেছিলাম৷ সে সময় মেয়েটি খুব ঝামেলা করছিল, তাই ওকে মারধর করি৷’ ধরা পড়ার পর শুক্রবারই কলকাতায় নিয়ে আসা হয় কাদের ও মহম্মদ আলি খানকে৷ দু’জনকেই নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ৷ এরপর শুক্রবার রাতভর দু’জনকে আলাদা আলাদা জেরা করে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷

জেরায় কাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় সে জানিয়েছে, সেদিন রাতে সুজেটের সঙ্গে আলাপ জমায় সে৷ সুজেটকে নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরতেও অনুরোধ জানায় সে৷ এরপর সুজেটকে তাদের সঙ্গে হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় কাদের৷ কিন্তু তাতে রাজি হননি সুজেট৷ গাড়ি থেকে নামতে চান সুজেট৷ চিৎকার শুরু করায় গাড়িতেই তাঁকে প্রথমে ধর্ষণ করে কাদের৷ সঙ্গে চলে পাশবিক অত্যাচার৷ সুজেট চিৎকার করতে থাকায় তাঁকে তারা মারধর করতে বাধ্য হয়েছিল বলে দাবি কাদেরের৷ জেরায় প্রায় একই রকম কথা জানিয়েছে আলিও৷ সেও জানিয়েছে কাদেরই সুজেটকে প্রথমে ধর্ষণ করেছিল৷ ধর্ষণের পর বন্ধুদের না কি কাদের বলেছিল, ‘ইসমে কুছ খাস নেহি হ্যায়৷ তুম লোগ লে লো৷’ এমনটাই দাবি আলির৷ কিন্তু কাদের সুজেটকে ধর্ষণের পর সুজেট প্রচণ্ড চিৎকার করতে থাকেন৷ ফলে তখন তারা তাঁকে গাড়ি থেকে ফেলে দিতে বাধ্য হয় বলে জেরায় জানিয়েছে আলি৷

এছাড়াও পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে একাধিক নামে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত কাদের৷ আত্মীয়দের প্রোফাইলও ব্যবহার করত সে৷ ফেসবুক প্রোফাইল জাল করে ফয়জল নাম নিয়ে কাদের তার জেলবন্দি সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে সে৷ ফয়জল নামে ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জেলবন্দি নাসির ও রুমানের একাধিকবার যোগাযোগ করেছিল কাদের৷ তবে সুমিত বাজাজকে কাদের এড়িয়ে যেত বলে খবর৷ ফেসবুকের মাধ্যমেই পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের গোটা বিচার প্রক্রিয়ার উপর নজর রেখেছিল কাদের৷

এছাড়াও এই সাড়ে চার বছরে কাদের ও আলি যেসব আত্নীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল তাদের তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ৷ শীঘ্রই তাদের জেরা করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ ভিন রাজ্যে কাদেরের যে আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠরা তাকে সহযোগিতা করেছিল তাদের সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বহু তথ্য জোগাড় করেছে পুলিশ৷ তাদেরকেও জেরা করতে পারে পুলিশ৷ এছাড়াও এই সাড়ে চার বছরে কাদের ও আলি কার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ জানা গেছে, ধৃত কাদের ও আলিকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবে পুলিশ৷

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য