kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানে হামলার পর সীমান্ত থেকে সরানো হচ্ছে ভারতীয় গ্রামবাসীদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৭



পাকিস্তানে হামলার পর সীমান্ত থেকে সরানো হচ্ছে ভারতীয় গ্রামবাসীদের

আজ শুক্রবার থেকে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার গ্রামবাসীকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে ভারত। বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরে কার্যত সীমান্ত বরাবর সামরিক অভিযান চালানোর এক দিন পর নয়াদিল্লী এ কাজ শুরু করল।

সেখানে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অভিযান চালানোকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক ক্ষমতাধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতের পক্ষ থেকে এটিকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলা হচ্ছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পাল্টা আঘাতের আশঙ্কায় ভুগছে পাঞ্জাবসহ গোটা পশ্চিম সীমান্ত। গতকাল সন্ধ্যায় পাক সেনাপ্রধান রাহিল শরিফের ‘বদলা নেওয়ার’ হুমকির পরে আশঙ্কার স্রোত বইছে নয়াদিল্লীর নর্থ-সাউথ ব্লকেও। ফলে আগামী দু-তিন দিন পাকিস্তান কী করে, সে দিকেই নজর থাকছে।

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জাব রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আজ থেকেই পাঞ্জাব সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যে সব গ্রাম রয়েছে, তা খালি করার কাজ শুরু হয়েছে। হামলার আশঙ্কায় সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও পুলিশদের ছুটি বাতিল করে দিয়েছে পাঞ্জাব প্রশাসন। সীমান্তে পাঠানো হয়েছে বাড়তি সেনা। খোঁড়া হচ্ছে বাঙ্কার। অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করা হয়েছে আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্তের প্রাত্যহিক সেনা মহড়া। সতর্কতা জারি করা হয়েছে রাজস্থান, গুজরাট এবং জম্মু ও কাশ্মীরেও। সরানো হচ্ছে সেখানকার সীমান্তবর্তী বা নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গ্রামের বাসিন্দাদেরও।

আজ শুক্রবার সকালে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদলকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। টেলিফোনে তিনি পাল্টা হামলা চালানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান। তাই সীমান্ত-সংলগ্ন সমস্ত গ্রাম খালি করে দেওয়া হোক।

পাঞ্জাবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৫৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের কাছাকাছি যেসব গ্রাম রয়েছে, জেলা প্রশাসন দুপুর থেকেই সেগুলো খালি করার কাজ শুরু করেছে। গ্রামগুলোর দখল নিয়ে খোঁড়া হচ্ছে বাঙ্কার। সীমান্তে মজুদ করা হচ্ছে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ। সীমান্তের দায়িত্ব এখনও বিএসএফের হাতে থাকলেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে পাঠানকোট সেনা ছাউনিকেও। খালি করে দেওয়া হয়েছে পাঠানকোট হাসপাতালের আপৎকালীন বিভাগ। রোগীদের অন্যত্রে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য