kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর চাঙা বিজেপি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:১৮



সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর চাঙা বিজেপি

জম্মু কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অব কন্ট্রোল) পেরিয়ে ভারতীয় সেনারা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে বলে দাবি করার পর বেশ উচ্ছ্বাস ও আমেজে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র নেতারা। ‘পাকিস্তান সমর্থিত’ জঙ্গিদের ওপর ‘সফল’ অভিযান চালানোর কারণে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাহবা দিয়েছেন তারা।

সেইসঙ্গে আগামী তিন রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন নিয়ে আবারও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা।  
বিজেপি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর উরি সেনাঘাঁটিতে হামলার ঘটনাটির কারণে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড এবং পাঞ্জাবের নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়বে বলে দলের নেতাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন। সেই ঘটনার বদলা না নেওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির বদল ঘটবে না বলেও বিশ্বাস করেন তারা। আর এমন প্রেক্ষাপটে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ তাদেরকে আশাবাদী করে তুলেছে। আর বিজেপি নেতাদের সেই উচ্ছ্বাস আর আশাবাদকে প্রতিফলিত করে এক বিবৃতিতে দলের সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, ‘এ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নতুন ভারতের উত্থানের ইঙ্গিত। ’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বুধবার রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সেনারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে। ওই অভিযানে ৯ পাকিস্তানি সেনা ও ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দিয়ে এমন সামরিক অভিযানকে বোঝানো হয়, যে অভিযানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বাইরে আশপাশের অবকাঠামো কিংবা জনসাধারণ হামলার শিকার হয় না বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর থেকে দুই সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে পাকিস্তান দাবি করে আসছে এটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না, সীমান্ত সংঘর্ষ বা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা ছিল। পাকিস্তান ভূখণ্ডে এ ধরনের অভিযান চালানো হলে একই কায়দায় এর জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে।
তবে পাকিস্তান স্বীকার করুক আর না করুক, বিজেপি নেতারা বলছেন ১৮ সেপ্টেম্বর উরি সেনাঘাঁটিতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় জঙ্গিদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে ভারত। বিবৃতিতে অমিত শাহ বলেন, ‘এ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে জঙ্গিদের উপযুক্ত জবাব দিয়ে নতুন ভারতের উত্থানের ইঙ্গিত মিলেছে। সেনাবাহিনী সফলভাবে এ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে এবং নিজেদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সন্ত্রাসীদের নাশ করেছে। এটা আমাদের সেনাবাহিনীর সাহসিকতা, সক্ষমতা এবং দেশপ্রেমের প্রমাণ। সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ যুদ্ধে এ প্রথমবারের মতো জঙ্গিদের উৎপত্তির কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে। ’
বিবৃতি দেওয়া ছাড়াও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে বেশ কয়েকটি টুইট করেছেন অমিত শাহ। এসব টুইটে মোদির প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত এখন নিরাপদ বোধ করছে। ’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ এ সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে ‘ভারতের অঙ্গীকারের দৃষ্টান্ত এবং সীমান্ত থেকে সন্ত্রাসবাদ দূর করার তীব্র ইচ্ছাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ’
বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থ নাথ সিং বলেছেন, ‘পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাস থেকে আমাদেরকে ও আমাদের সীমান্তকে রক্ষা করায় মোদি সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীকে স্যালুট জানাই। দায়িত্ববান সরকার কথা কম বলে কিন্তু কাজ বেশি করে। আর সেটাই মোদি সরকার চর্চা করে থাকে। ’
সিদ্ধার্থ সিং মনে করেন, ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকস এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলাটা মোদির সাফল্য।


মন্তব্য