kalerkantho


‘নির্যাতনের সংস্কৃতিতে’ থাই সরকারের মদত: অ্যামনেস্টি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:০৮



‘নির্যাতনের সংস্কৃতিতে’ থাই সরকারের মদত: অ্যামনেস্টি

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশানাল তাদের নতুন রিপোর্টে বলছে থাইল্যান্ডে সামরিক সরকার ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর দেশটিতে "নির্যাতনের সংস্কৃতি" ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তাদের প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ৭৪টি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেছে।

এছাড়াও পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর মারধোর এবং ওয়াটারবোর্ডিং-এর মত ডুবে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে এই রিপোর্টে।

থাইল্যান্ডে কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অসন্তোষের পর ২০১৪ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করে এই বলে দেশে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে তাদের ক্ষমতা হাতে নিতে হচ্ছে।

সেনাবাহিনী নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

"এধরনের অভিযোগ তদন্ত করে আমরা নির্যাতনের কোনো ইঙ্গিত পাই নি। আমি যেমন নির্যাতনের কোন চিহ্ন দেখিনি, তেমনি থাই জনগণও নির্যাতনের কোন চিহ্ন দেখে নি," রয়টার্সকে বলেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন মুখপাত্র জেনারেল সানর্সেন কায়েকুমনার্ড।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য অ্যামনেস্টির আজ বুধবার ব্যাংককে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই সম্মেলন বাতিল করতে হয় কারণ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দেন এই বলে যে বক্তাদের শ্রম আইনে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

"আমরা শুধু থাই সরকারের আচরণ আলাদাভাবে তুলে ধরতে চাইছি না," বলেন অ্যামনেস্টির এশিয়া মিডিয়া ম্যানেজার ওমর ওয়ারাইচ।

দায়বদ্ধতার অভাব

"থাইল্যান্ডের সেনাশাসকরা নির্যাতনের সংস্কৃতিকে মদত দিয়েছে। নির্যাতনকারীদের কোনোভাবে দায়বদ্ধ করা হয়নি এবং নির্যাতনের শিকাররা বিচার পাননি," বলেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা বিষয়ে অ্যামেনস্টির পরিচালক রাফেন্দি জামিন।

অভ্যুত্থানের পর থেকে থাইল্যান্ড তাদের মানবাধিকার রেকর্ডের অবনতির কথা অস্বীকার করে এসেছে।

অভ্যুত্থানের নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা বলেন "প্রত্যেক দেশই খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। " যেসব দেশ থাইল্যান্ডের সমালোচনা করছে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আমরা মানবাধিকার লংঘন করি না- আপনারাও মানবাধিকার লংঘনের দায়ে দোষী। "

তিনি আগামী বছর নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্ষমতায় আসার পর থাইল্যান্ডের সামরিক সরকার - যার সরকারি নাম ন্যাশানাল কাউন্সিল ফর পিস্ অ্যান্ড অর্ডার- সরকারের সমালোচকদের জেলে পাঠিয়েছে, গণমাধ্যমে ব্যাপক সেন্সর চালু করেছে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। বিবিসি বাংলা


মন্তব্য