kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মোটা বলে নামিয়ে দিলেন অটোরিকশাচালক, প্রতিবাদ করে বিপদে পড়লেন তরুণী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৪৮



মোটা বলে নামিয়ে দিলেন অটোরিকশাচালক, প্রতিবাদ করে বিপদে পড়লেন তরুণী

দিন কয়েক আগে অস্মি শাহ নামের ৩০ বছর মুম্বাই নিবাসী এক তরুণী অটোরিকশায় চড়েছিলেন। সান্তা ক্রুজে যাওয়ার কথা ছিল অস্মির।

অটোরিকশায় ওঠার পরেই অটোরিকশাচালক অস্মিকে বলেন, ‘‘সিটের ধারে বসবেন না। মাঝখানটায় এসে বসুন। ’’ সেই মতো সিটের মাঝে এসে বসেন অস্মি। মাঝপথে নিজের মাকে অটোতে তোলার কথা ছিল অস্মির। অটোরিকশাচালককে সেই কথা বলেন তিনি। সম্মত হওয়ার পরিবর্তে অটোরিকশাচালক পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‘আপনার মাও কি আপনার মতোই মোটা?’’ হতচকিত হয়ে যান অস্মি। তিনি চালককে অনুরোধ করেন, এমন বিশ্রী ভাষায় যেন কথা না বলেন তিনি। এবার অটোরিকশাচালক সরাসরি বলেন, ‘‘দেখুন, আমি মোটা লোকেদের আমার অটোতে তুলি না। ’’ অস্মি রেগে গিয়ে চালকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার ভয় দেখান। কিন্তু অটোরিকশাচালক ভয় পাওয়ার বদলে অস্মিকে বলেন, ‘‘আপনার যা ইচ্ছে করুন। ’’  অপমানিত অস্মি অটো থেকে নেমে যান।

অটোরিকশাটির নাম্বার প্লেটের একটি ছবি তুলে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন অস্মি। পরে সেই ছবি অস্মি মুম্বাই পুলিশের কাছে টুইটার মারফৎ অভিযোগ করেন। পুলিশ সেই চালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু টুইটারে নিজের অপমানের কথা পোস্ট করে অন্যরকম বিপাকে পড়েন অস্মি। তাঁর স্থূলতাকে ব্যঙ্গ করে অজস্র পোস্ট আসতে শুরু করে। কেউ লেখেন, ‘‘তুমি একটু রোগা হলেই তো পারো। হা হা!’’ কেউ আবার বলেন, ‘‘তুমি আর তোমার মা তো আসলে চারজনের সমান। আর অটোতে চারজন নেওয়া বেআইনি। ’’ কেউ বা লেখেন, ‘‘আসলে অটোচালক চাইছিলেন, আপনি অটোতে না চড়ে একটু হাঁটুন। তাতে আপনিই সুস্থ থাকবেন। ’’

হতবাক হয়ে গিয়েছেন অস্মি। তিনি চেয়েছিলেন, স্থূলতার প্রতি মানুষের ব্যঙ্গাত্মক মনোভাব বদলাতে। সেটা করতে গিয়ে তিনি আরও বেশি করে হয়ে উঠেছেন হাসির খোরাক। কিন্তু কেন? কোনও মানুষের স্বাস্থ্য কেমন হবে, সে তো সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তাহলে অস্মিকে এইভাবে ট্রোল করার অর্থ কী? সোশ্যাল মিডিয়া সাধারণভাবে মানুষকে সুবিচার দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হলেও তার অন্যথাও যে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। অস্মির ঘটনা তাই প্রমাণ করে।


মন্তব্য